সুরাঙ্গন নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক: পড়াশোনা শেষ করার পর আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড কমিয়ে ৩০ দিন করার পাশাপাশি, ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর ক্ষেত্রে USCIS-এর অনুমোদন বাধ্যতামূলক করার নতুন নিয়ম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের একটি নীতি গবেষণা সংগঠন।
Foundation for India and Indian Diaspora Studies (FIIDS) সতর্ক করে বলেছে, F-1 ও J-1 ভিসার জন্য নতুন চার বছরের সর্বোচ্চ সময়সীমা কার্যকর হলে অনেক আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী তাদের ডিগ্রি বা গবেষণা শেষ হওয়ার আগেই যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে বাধ্য হতে পারেন।
FIIDS নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি এবং U.S. Citizenship and Immigration Services (USCIS)-এর প্রতি নতুন নিয়মটির তাৎক্ষণিক বাস্তবায়ন স্থগিত করার আহ্বান জানিয়েছে।
সংগঠনটির মতে, নিয়মটি ১৬–১৭ জুলাই চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।
FIIDS জানিয়েছে, নতুন নিয়মটি কয়েক দশক ধরে চালু থাকা “Duration of Status” নীতি বাতিল করে সর্বোচ্চ চার বছরের অবস্থানসীমা নির্ধারণ করছে। এই চার বছরের হিসাবের মধ্যে Optional Practical Training (OPT) এবং STEM OPT-এর সময়ও অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
এছাড়া পড়াশোনা শেষ হওয়ার পর গ্রেস পিরিয়ড ৬০ দিন থেকে কমিয়ে ৩০ দিন করা হচ্ছে। চার বছরের বেশি সময় থাকার প্রয়োজন হলে শিক্ষার্থীদের Form I-539-এর মাধ্যমে USCIS-এর অনুমোদন নিতে হবে বলে FIIDS জানিয়েছে।
FIIDS-এর নীতি ও কৌশলবিষয়ক প্রধান খান্ডেরাও কান্ড বলেন, “এটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতার ওপর নিজেরাই নিজেদের আঘাত করা।” তিনি বলেন, “চার বছরের সীমা আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থার বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। একটি ব্যাচেলর ডিগ্রি শেষ করতে গড় সময় প্রায় ৫২ মাস, আর পিএইচডি সম্পন্ন করতে প্রায় ৫.৭ বছর লাগে। একই সময়ে USCIS-এর কাছে ইতোমধ্যে ১ কোটি ১০ লাখের বেশি আবেদন ও মামলা জমে আছে এবং অনেক ক্ষেত্রে প্রক্রিয়াকরণে প্রায় এক বছর সময় লাগছে।”
তার মতে, “শিক্ষার্থীরা ডিগ্রি বা গবেষণার মাঝপথে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে বাধ্য হবে, গবেষণাগারগুলো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিভা হারাবে এবং আমেরিকা তার উদ্ভাবনী সক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর হাতে তুলে দেবে।”
FIIDS আরও বলেছে, অনেক গবেষণানির্ভর শিক্ষাক্রম, বিশেষ করে ডক্টরাল প্রোগ্রাম ও মেডিকেল প্রশিক্ষণ নিয়মিতভাবেই চার বছরের বেশি সময় নেয়। J-1 গবেষক ও চিকিৎসকদের ক্ষেত্রেও একটি প্রোগ্রাম সম্পন্ন করতে প্রায় ৫ থেকে ৭ বছর সময় লাগতে পারে।
নতুন নিয়মের অধীনে ভিসা বাড়ানোর অনিশ্চয়তা গবেষণাগারের কার্যক্রম ব্যাহত করতে পারে, শিক্ষার্থীদের গ্র্যাজুয়েশন বিলম্বিত করতে পারে এবং আন্তর্জাতিক প্রতিভার ওপর নির্ভরশীল বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও গবেষক নিয়োগ পরিকল্পনাকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে বলে সতর্ক করেছে FIIDS।
খান্ড বলেন, “বাস্তবায়ন স্থগিত করুন, শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা দিন এবং যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণা ও উদ্ভাবনকে রক্ষা করুন।” তাঁর মতে, যদি উদ্দেশ্য হয় অভিবাসন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, তাহলে এমনভাবে তা করা উচিত নয় যাতে যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণাগার ও স্টার্টআপগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষার পথগুলোই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এক বিবৃতিতে FIIDS কংগ্রেসের কাছে F-1 ও J-1 ভিসাধারীদের জন্য Duration of Status ব্যবস্থা পুনর্বহালের আহ্বান জানিয়েছে।
সংগঠনটি আরও প্রস্তাব করেছে, যেসব গ্র্যাজুয়েট ও STEM প্রোগ্রাম শেষ করতে সাধারণত ৪৮ মাসের বেশি সময় লাগে, সেগুলোর জন্য আইনি ছাড় দেওয়া হোক। এসব ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৬৪ মাসের সীমা এবং স্বয়ংক্রিয় মেয়াদ বৃদ্ধির ব্যবস্থা রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
নিয়মটি কার্যকর হওয়ার আগেই USCIS ও Department of Homeland Security-এর কাছে প্রশাসনিকভাবে কিছু সুবিধা দেওয়ারও দাবি জানিয়েছে FIIDS। এর মধ্যে রয়েছে:
- ভালো অবস্থানে থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য স্বয়ংক্রিয় ভিসা/স্ট্যাটাস এক্সটেনশন;
- চার বছরের হিসাব থেকে OPT ও STEM OPT-এর সময় বাদ দেওয়া;
- Form I-539 দ্রুত প্রক্রিয়াকরণ;
- এবং পড়াশোনা শেষের পর ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড পুনর্বহাল।
FIIDS-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শরৎ সেমিস্টারে নতুন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তি ১৭% কমেছে, যা মহামারির পর সবচেয়ে বড় পতন। সংগঠনটির হিসাব অনুযায়ী, এই পতনের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে ১.১ বিলিয়ন ডলারের বেশি রাজস্ব এবং প্রায় ২৩,০০০ কর্মসংস্থান হারিয়েছে।


