কোন লক্ষণ দেখলে সতর্ক হবেন?
সুরাঙ্গন নিউজ ডেস্ক: উচ্চ রক্তচাপকে অনেক সময় ‘নীরব ঘাতক’ বলা হয়। কারণ, রক্তচাপ বেড়ে গেলেও বহু মানুষের শরীরে দীর্ঘদিন কোনও স্পষ্ট উপসর্গ দেখা যায় না। অথচ অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ হৃদ্রোগ, স্ট্রোক ও কিডনির সমস্যার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই অসুস্থ বোধ করার অপেক্ষা না করে নিয়মিত রক্তচাপ মাপা জরুরি।
উপসর্গ না থাকাই বড় সমস্যা
দীর্ঘদিন রক্তচাপ স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি থাকলে রক্তনালির ক্ষতি হতে পারে। এতে মস্তিষ্ক, হৃদ্যন্ত্র ও কিডনির ওপর চাপ পড়ে। মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা বা চোখে ঝাপসা দেখার মতো সমস্যা কখনও দেখা দিলেও এগুলো উচ্চ রক্তচাপের নির্দিষ্ট লক্ষণ নয়। অনেকের ক্ষেত্রে বিপজ্জনক মাত্রায় রক্তচাপ বেড়ে গেলেও কোনও উপসর্গ থাকে না।

উচ্চ রক্তচাপ থেকে স্ট্রোক কেন?
মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে অথবা মস্তিষ্কের রক্তনালি ফেটে রক্তক্ষরণ হলে স্ট্রোক হয়। উচ্চ রক্তচাপ এই দুই ধরনের স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। দীর্ঘদিন রক্তচাপ অনিয়ন্ত্রিত থাকলে মস্তিষ্কের রক্তনালি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং রক্ত চলাচলে বাধা বা রক্তক্ষরণ ঘটতে পারে।
কমবয়সিরাও ঝুঁকিতে
বয়স বাড়ার সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়লেও কমবয়সিরাও এর বাইরে নন। অতিরিক্ত ওজন, খাবারে বেশি লবণ, শরীরচর্চার অভাব, অপর্যাপ্ত ঘুম, ধূমপান ও অতিরিক্ত মদ্যপান রক্তচাপ বাড়াতে পারে। পরিবারে উচ্চ রক্তচাপের ইতিহাস থাকলেও সতর্ক থাকা জরুরি।
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখবেন কীভাবে?
রক্তচাপ মাপার আগে অন্তত পাঁচ মিনিট শান্ত হয়ে বসুন। পা মেঝেতে সমানভাবে রাখুন এবং হাত হৃদ্যন্ত্রের উচ্চতায় রাখুন। মাপার অন্তত ৩০ মিনিট আগে ধূমপান, ক্যাফেইন গ্রহণ ও শরীরচর্চা এড়িয়ে চলুন। একবার রক্তচাপ বেশি এলে আতঙ্কিত না হয়ে সঠিক পদ্ধতিতে আবার মাপুন। বারবার বেশি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
খাবারে লবণ কমানো, ফল ও শাকসবজি খাওয়া, নিয়মিত হাঁটা, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং পর্যাপ্ত ঘুম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ খেলে উপসর্গ না থাকলেও তা নিয়মিত সেবন করতে হবে। নিজের সিদ্ধান্তে ওষুধ বন্ধ করা উচিত নয়।

স্ট্রোকের লক্ষণ চিনুন, দেরি করবেন না
হঠাৎ মুখের এক পাশ বেঁকে যাওয়া, এক হাত বা পা দুর্বল হয়ে পড়া, কথা জড়িয়ে যাওয়া, বুঝতে অসুবিধা হওয়া, দৃষ্টিশক্তির আকস্মিক পরিবর্তন কিংবা হঠাৎ ভারসাম্য হারানো স্ট্রোকের লক্ষণ হতে পারে। এমন লক্ষণ দেখা দিলে অবিলম্বে জরুরি চিকিৎসা নিন। যুক্তরাষ্ট্রে ৯১১ নম্বরে ফোন করুন। লক্ষণ নিজে থেকে সেরে গেলেও চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।
মনে রাখবেন, শরীর ভালো লাগলেই রক্তচাপ স্বাভাবিক আছে এমন নয়। নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা ও যথাযথ চিকিৎসাই স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।


