সুরাঙ্গন নিউজ ডেস্ক: সাহিত্যের চেনা সীমানা ভেঙে কবিতা, গদ্য, প্রবন্ধ, অনুবাদ ও ধ্রুপদি সাহিত্যের সঙ্গে আধুনিকতার এক অভিনব মেলবন্ধন ঘটিয়েছেন তিনি। সেই সৃষ্টিশীলতার স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৬ সালের সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেলেন কানাডার কবি, প্রাবন্ধিক ও অনুবাদক অ্যানে কারসন।
বৃহস্পতিবার সুইডিশ অ্যাকাডেমি তাঁর নাম ঘোষণা করে। নোবেল কমিটির ভাষায়, “ধ্রুপদি ঐতিহ্যের সঙ্গে খেলাচ্ছলে সংলাপের মধ্য দিয়ে সমকালীন সাহিত্যের নতুন নতুন রূপ সৃষ্টি করা তাঁর সাহসী ও উদ্ভাবনী সাহিত্যকর্মের জন্য” তাঁকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।
১৯৫০ সালে কানাডার টরন্টোয় জন্ম অ্যানে কারসনের। পেশাগত জীবনে তিনি দীর্ঘদিন বিশ্ববিদ্যালয়ে ধ্রুপদি সাহিত্য ও ক্লাসিকস পড়িয়েছেন। বিশেষ করে প্রাচীন গ্রিক সাহিত্য ও ভাষার প্রতি তাঁর গভীর আগ্রহ তাঁর সাহিত্যকর্মকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে। কবিতা লেখার পাশাপাশি তিনি প্রবন্ধ, অনুবাদ, গদ্য ও মঞ্চনির্ভর কাজেও নিজস্ব স্বাক্ষর রেখেছেন। তাঁর লেখায় প্রাচীন গ্রিক পুরাণ ও সাহিত্য বারবার ফিরে এসেছে, তবে প্রতিবারই নতুন ও আধুনিক ব্যাখ্যায়।
কারসনের অন্যতম পরিচিত গ্রন্থ ‘Autobiography of Red’। ১৯৯৮ সালে প্রকাশিত এই ‘ভার্স নভেল’-এ প্রাচীন গ্রিক পুরাণের চরিত্র গেরিয়নকে আধুনিক সময়ের এক কিশোরের গল্পের সঙ্গে মিলিয়ে নতুন আঙ্গিক তৈরি করেন তিনি। তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে Eros the Bittersweet, Men in the Off Hours, Nox এবং Norma Jeane Baker of Troy।
কারসনের সাহিত্যকর্মের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো—তিনি কোনো নির্দিষ্ট সাহিত্যিক ঘরানার মধ্যে নিজেকে আটকে রাখেননি। কবিতা ও গদ্যের পাশাপাশি অনুবাদ, নাটক, অপেরা ও ভিজ্যুয়াল আর্টের সঙ্গেও তাঁর কাজের গভীর যোগ রয়েছে। নোবেল কমিটিও তাঁর লেখায় ভাষাবিদ বা শব্দ-অনুসন্ধানীর সূক্ষ্মতা এবং কবির নতুন অর্থের সন্ধানের আকাঙ্ক্ষার অসাধারণ সমন্বয়ের কথা তুলে ধরেছে।
৭৬ বছর বয়সী কারসন বর্তমানে আইসল্যান্ডেও সময় কাটান এবং ২০২২ সাল থেকে দেশটির নাগরিকত্ব রয়েছে। নোবেল পাওয়ার খবর যখন তাঁকে জানানো হয়, তখন তিনি আইসল্যান্ডেই ছিলেন। সুইডিশ অ্যাকাডেমির স্থায়ী সচিবের বর্ণনা অনুযায়ী, খবরটি শুনে তিনি অত্যন্ত বিস্মিত হন।
প্রাচীন ও আধুনিক, কবিতা ও গদ্য, গবেষণা ও সৃজনশীলতা; এই আপাত-বিপরীত জগতগুলিকে এক সুতোয় বেঁধে অ্যানে কারসন সমকালীন সাহিত্যে তৈরি করেছেন নিজের স্বতন্ত্র ভূগোল। তাঁর নোবেল সেই সীমানাহীন সাহিত্যসৃষ্টিরই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।


