ভারতীয় গ্রিন কার্ডধারীদের নাগরিকত্ব পেতে অপেক্ষা বাড়ছে
সুরাঙ্গন নিউজ : যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় বংশোদ্ভূত গ্রিন কার্ডধারীদের নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়ায় ধীরগতি দেখা দিয়েছে। মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা (USCIS)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের আগস্টে নাগরিকত্বের জন্য জমা পড়া এবং নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকা আবেদনের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ লাখ ১৩ হাজার ৪৫৩-এ। অন্যদিকে, একই মাসে নাগরিকত্ব অনুমোদনের সংখ্যা আগের দুই মাসের তুলনায় কমেছে। এতে দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ড নিয়ে বসবাসকারী ভারতীয় অভিবাসীদের মধ্যে নাগরিকত্ব পেতে অপেক্ষার সময় বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
USCIS-এর মাসিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগস্টে ফর্ম N-400-এর মাধ্যমে জমা পড়া নাগরিকত্বের আবেদন অনুমোদিত হয়েছে ১৫ হাজার ৩৪৯টি। জুলাইয়ে এই সংখ্যা ছিল ১৬ হাজার ৫১৪ এবং জুনে ১৮ হাজার ৪৩৯। অর্থাৎ, টানা তিন মাসের পরিসংখ্যানে নাগরিকত্ব অনুমোদনের সংখ্যা কমতে দেখা গেছে।
অন্যদিকে, নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকা আবেদনের সংখ্যা ক্রমাগত বেড়েছে। জুনে এই সংখ্যা ছিল ৭ লাখ ৪৪ হাজার ৪১২। জুলাইয়ে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৭ লাখ ৭৮ হাজার ৪৮৯ এবং আগস্টে পৌঁছায় ৮ লাখ ১৩ হাজার ৪৫৩-এ। আগস্টে অপেক্ষমাণ আবেদনগুলোর মধ্যে ৫ লাখ ১৩ হাজার ৪৬২টি ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে ঝুলে ছিল। সংস্থাটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নাগরিকত্বের আবেদন প্রক্রিয়াকরণে গড় সময় ছিল ১২.৭ মাস।

পরিসংখ্যানে আরও দেখা যায়, আগস্টে USCIS নতুন করে ৫৪ হাজার ৪৯২টি নাগরিকত্বের আবেদন পেয়েছে। অর্থাৎ, ওই মাসে যত আবেদন অনুমোদিত হয়েছে, নতুন আবেদনের সংখ্যা তার তিন গুণেরও বেশি। নতুন আবেদন আসার ধারাবাহিকতা এবং নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকা আবেদনের সংখ্যা বৃদ্ধির ফলে প্রশাসনিক চাপ বাড়তে পারে।
ভারতীয় অভিবাসীদের জন্য বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ অর্থবছরে মার্কিন নাগরিকত্ব গ্রহণকারীদের জন্মদেশের তালিকায় ভারতের অবস্থান ছিল দ্বিতীয়। ওই বছর ভারতে জন্ম নেওয়া প্রায় ৪৯ হাজার ৭০০ জন মার্কিন নাগরিকত্ব পান, যা মোট নতুন নাগরিকের ৬.১ শতাংশ।
ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন কংগ্রেসওম্যান প্রমিলা জয়পালও নাগরিকত্ব অনুমোদনের ধীরগতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি জয়পাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম X-এ বিষয়টি তুলে ধরেন। ক্যাটো ইনস্টিটিউটের ডেভিড বিয়ারের সংকলিত তথ্য উল্লেখ করে তিনি অভিযোগ করেন, গ্রিন কার্ডধারীদের নাগরিকত্বের অনুমোদনের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে। তবে অনুমোদন কমে যাওয়ার নির্দিষ্ট কারণ USCIS-এর মাসিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
এদিকে, ট্রাম্প প্রশাসনের সময় বিভিন্ন বৈধ অভিবাসন প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন ও বিধিনিষেধ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ডের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত PERM শ্রম-সনদ প্রক্রিয়া স্থগিত রাখার পদক্ষেপও ভারতীয় পেশাজীবীদের মধ্যে আলোচনার বিষয় হয়েছে।
সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, বৈধ স্থায়ী বাসিন্দারা (গ্রিন কার্ডধারী) সাধারণত পাঁচ বছর পর মার্কিন নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন। তবে মার্কিন নাগরিকের সঙ্গে বিবাহিত এবং নির্দিষ্ট শর্ত পূরণকারী ব্যক্তিরা তিন বছর পর আবেদন করার সুযোগ পান। নাগরিকত্ব পেতে আবেদনকারীদের ইংরেজি ও মার্কিন ইতিহাস-নাগরিকত্ববিষয়ক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয় এবং সাক্ষাৎকারে অংশ নিতে হয়।
বিশেষ করে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ডের জন্য দীর্ঘদিন অপেক্ষা করা বহু ভারতীয় পেশাজীবীর কাছে নাগরিকত্ব পাওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ চূড়ান্ত ধাপ। মার্কিন নাগরিকত্ব পেলে ভোটাধিকার, বিদেশ ভ্রমণে পাসপোর্ট-সংক্রান্ত সুবিধা এবং যোগ্য পরিবারের সদস্যদের জন্য অভিবাসন আবেদন করার সুযোগসহ বিভিন্ন অধিকার পাওয়া যায়।

নাগরিকত্বের অনুমোদনে দীর্ঘসূত্রতা থাকলে আবেদনকারীদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক পরিকল্পনাও প্রভাবিত হতে পারে। চলতি বছরে আবেদন করা অনেকেই নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে নাগরিকত্ব নাও পেতে পারেন। তবে নির্দিষ্ট আবেদনকারীর ক্ষেত্রে সিদ্ধান্তের সময় আলাদা হতে পারে।
অভিবাসন আইনজীবীরা আবেদনকারীদের প্রয়োজনীয় নথিপত্রসহ সম্পূর্ণ আবেদন জমা দেওয়া এবং USCIS-এর কাছে বর্তমান ঠিকানা হালনাগাদ রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। এতে আবেদনসংক্রান্ত যোগাযোগের সমস্যা কমতে পারে, যদিও প্রক্রিয়াকরণের সময় নিশ্চিতভাবে কমবে – এমন নিশ্চয়তা নেই।
সূত্র: USCIS-এর মাসিক প্রতিবেদন, যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের পরিসংখ্যান এবং IANS-এর প্রতিবেদন।


