মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভারতীয়-আমেরিকান ভোটারদের গুরুত্ব নিয়ে নতুন আলোচনা
সুরাঙ্গন নিউজ ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে (মিডটার্ম) ভারতীয় বংশোদ্ভূত জনগোষ্ঠীর বসবাস বেশি, এমন ১০০টি কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টের মধ্যে ৮৪টিতে জয় পেয়েছে ডেমোক্রেটিক পার্টি। অন্যদিকে, রিপাবলিকান পার্টি জয় পেয়েছে ১৫টি আসনে। অ্যারিজোনার প্রথম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টের ফল তখনো চূড়ান্ত হয়নি। সেখানে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যামিশ শাহ এগিয়ে ছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস-এর নির্বাচনী ফলাফল ও জনসংখ্যার উপাত্ত বিশ্লেষণে এ তথ্য উঠে এসেছে। ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কেবল জাতীয় পর্যায়েই নয়, ভারতীয় বংশোদ্ভূত জনগোষ্ঠীর উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে – এমন নির্বাচনী এলাকাগুলোতেও ডেমোক্র্যাটদের শক্তিশালী অবস্থান দেখা গেছে।
মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের মোট ৪৩৫টি আসনের মধ্যে ভারতীয় বংশোদ্ভূত জনগোষ্ঠীর বসবাসের ঘনত্ব অনুযায়ী শীর্ষ ১০০টি আসন চিহ্নিত করে এই বিশ্লেষণ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ২০২০–২০২৪ সালের আমেরিকান কমিউনিটি সার্ভের (ACS) তথ্য ব্যবহার করে আসনগুলো নির্ধারণ করা হয়। এই ১০০টি নির্বাচনী এলাকায় দেশটির অর্ধেকেরও বেশি ভারতীয় বংশোদ্ভূত জনগোষ্ঠীর বসবাস।
ক্যালিফোর্নিয়ার ১৭তম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টে ভারতীয় বংশোদ্ভূত মানুষের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি – প্রায় ১ লাখ ৪৬ হাজার। এই আসনটি এবারও ডেমোক্র্যাটদের দখলে রয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার শীর্ষ ১০০ তালিকাভুক্ত ২০টি আসনের মধ্যে ১৯টিতেই জয় পেয়েছে ডেমোক্রেটিক পার্টি।

ক্যালিফোর্নিয়ার পাশাপাশি নিউইয়র্ক, ইলিনয়, নিউ জার্সি ও পেনসিলভানিয়ার উল্লেখযোগ্য ভারতীয় বংশোদ্ভূত জনগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে এমন আসনগুলোতেও ডেমোক্র্যাটরা জয় পেয়েছে। অন্যদিকে, টেক্সাসে রিপাবলিকানরা নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে। ভারতীয় বংশোদ্ভূত জনগোষ্ঠীর ঘনত্ব বেশি এমন টেক্সাসের ১৩টি আসনের মধ্যে ৯টিতে জয় পেয়েছে রিপাবলিকান প্রার্থীরা।
যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে প্রায় ২৬ লাখ ভারতীয় বংশোদ্ভূত নাগরিকের ভোটাধিকার রয়েছে। তবে এই ১০০টি নির্বাচনী এলাকার কোনোটিতেই ভারতীয় বংশোদ্ভূতরা মোট জনসংখ্যার সংখ্যাগরিষ্ঠ নন। উদাহরণস্বরূপ, ক্যালিফোর্নিয়ার ১৭তম আসনে তাঁরা মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ। তা সত্ত্বেও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে তাঁদের ভোট জয়-পরাজয়ের ব্যবধান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
নির্বাচনের আগে কার্নেগি এনডাউমেন্ট ও ইউগভের একটি জরিপেও ভারতীয়-আমেরিকান ভোটারদের মধ্যে ডেমোক্র্যাটদের প্রতি তুলনামূলক বেশি সমর্থনের চিত্র উঠে আসে। জরিপ অনুযায়ী, ৬২ শতাংশ ভারতীয়-আমেরিকান নাগরিক হাউস নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের সমর্থনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন। বিপরীতে রিপাবলিকান প্রার্থীদের সমর্থনের কথা জানিয়েছিলেন ১৯ শতাংশ। সিনেট নির্বাচনের ক্ষেত্রে ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে সমর্থন ছিল ৬৩ শতাংশ এবং রিপাবলিকানদের পক্ষে ২১ শতাংশ।

২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা শুধু হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস নয়, সিনেটেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। ফলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের বাকি দুই বছরের আইন প্রণয়ন ও নীতিনির্ধারণী কার্যক্রমে কংগ্রেসের ভূমিকা নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে।
ভারতীয়-আমেরিকান জনগোষ্ঠীর জনসংখ্যা, ভোটের অংশগ্রহণ এবং নির্বাচনী ফলাফলের এই পরিসংখ্যান যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে অভিবাসী জনগোষ্ঠীর ক্রমবর্ধমান গুরুত্বের বিষয়টিকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। বিশেষ করে হিউস্টন, ডালাস, আটলান্টা, শিকাগো ও সিয়াটলের মতো শহরগুলোতে ভারতীয় বংশোদ্ভূত জনগোষ্ঠীর উপস্থিতি ভবিষ্যতের নির্বাচনী সমীকরণেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
সূত্র: Hindustan Times, ২০২৬ সালের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল।


