সুরাঙ্গন নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald J. Trump নাসার আর্টেমিস–২ অভিযানের চার মহাকাশচারী: রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কচ এবং কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সির জেরেমি হ্যানসেনকে কংগ্রেশনাল স্পেস মেডেল অব অনার প্রদান করেছেন।
শুক্রবার হিউস্টরের নাসার জনসন স্পেস সেন্টারে এক অনুষ্ঠানে তাঁদের এই সম্মাননা দেওয়া হয়। ২০২৩ সালের পর এটিই ছিল প্রথমবারের মতো এই পদক প্রদানের অনুষ্ঠান।

আর্টেমিস–২ মিশন ১ এপ্রিল উৎক্ষেপণের পর ১০ এপ্রিল প্রশান্ত মহাসাগরে নিরাপদে অবতরণ করে। চার মহাকাশচারীই ছিলেন নাসার স্পেস লঞ্চ সিস্টেম (SLS) রকেটে উৎক্ষেপিত প্রথম মানবযাত্রী। তাঁরা ওরিয়ন মহাকাশযানে করে চাঁদের চারপাশে ভ্রমণ করেন; ক্রুরা মহাকাশযানটির নাম দিয়েছিলেন ‘ইন্টিগ্রিটি’।
মিশনটি মানব মহাকাশযাত্রার দূরত্বের নতুন রেকর্ডও তৈরি করে। পৃথিবী থেকে সর্বোচ্চ প্রায় ২,৫২,৭৫৬ মাইল দূরে পৌঁছে তারা আগের মানব-ভ্রমণ রেকর্ড অতিক্রম করে, যা ১৯৭০ সালের অ্যাপোলো–১৩ অভিযানের সময় স্থাপিত হয়েছিল। চাঁদের পাশ দিয়ে উড়ে যাওয়াসহ পুরো মিশনে ক্রুরা প্রায় ৬,৯৫,০৮১ মাইল পথ অতিক্রম করেন।
অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চার মহাকাশচারীকে “নির্ভীক মহাকাশ বীর” হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি তাঁদের পাশাপাশি এই অভিযানের পেছনে কাজ করা প্রকৌশলী, বিজ্ঞানী, উৎক্ষেপণ ও অবতরণ বিশেষজ্ঞ এবং নাসার কর্মীদেরও প্রশংসা করেন।

নাসার প্রশাসক Jared Isaacman বলেন, আর্টেমিস কর্মসূচির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র মহাকাশে নেতৃত্ব পুনরুদ্ধারের পথে রয়েছে। তাঁর মতে, আর্টেমিস–২-এর সাফল্য নাসার কর্মী, শিল্পখাত ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল।
মিশনের কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান বলেন, গ্লোভার, কচ ও হ্যানসেনের সঙ্গে ‘ইন্টিগ্রিটি’তে চাঁদের চারপাশে উড়ে যাওয়া তাঁর জীবনের অন্যতম বড় সম্মান। পাইলট ভিক্টর গ্লোভারও এই স্বীকৃতিকে মিশনের সঙ্গে যুক্ত হাজারো মানুষের কঠোর পরিশ্রমের সম্মিলিত অর্জন বলে উল্লেখ করেন।
মিশন স্পেশালিস্ট ক্রিস্টিনা কচ বলেন, এই পুরস্কার তাঁদের একার নয়; কারখানার কর্মী থেকে শুরু করে ক্লিন রুম ও মিশন কন্ট্রোলের কর্মীদের সম্মান জানাতেই তাঁরা এটি গ্রহণ করছেন। কানাডার মহাকাশচারী জেরেমি হ্যানসেন বলেন, আর্টেমিস–২ দেখিয়েছে উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্য নির্ধারণ করে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে মানবতার জন্য বড় অর্জন সম্ভব।
কংগ্রেশনাল স্পেস মেডেল অব অনার ১৯৬৯ সালে কংগ্রেস অনুমোদন করে। কর্তব্য পালনের সময় অসাধারণ সাহস ও কৃতিত্ব এবং জাতি ও মানবতার কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এই পদক দেওয়া হয়। এখন পর্যন্ত এর প্রাপকের সংখ্যা ৩৪ জন; এর মধ্যে অ্যাপোলো–১, চ্যালেঞ্জার ও কলম্বিয়ার দুর্ঘটনায় নিহত মহাকাশচারীরাও মরণোত্তর এই সম্মান পেয়েছেন।
আর্টেমিস–২-এর সাফল্যের পর নাসা চাঁদে মানব অভিযানের পরবর্তী ধাপের দিকে এগোচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আর্টেমিস–৩ চাঁদের কক্ষপথে ওরিয়ন ও বাণিজ্যিক মানব অবতরণ ব্যবস্থার সংযোগ ও ডকিং সক্ষমতা পরীক্ষা করবে, আর পরবর্তী আর্টেমিস–৪ অভিযানের মাধ্যমে মার্কিন মহাকাশচারীদের চন্দ্রপৃষ্ঠে ফিরিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।
দীর্ঘমেয়াদে নাসার লক্ষ্য হলো চাঁদের আরও বিস্তৃত অঞ্চল অনুসন্ধান এবং সেখানে স্থায়ী মানব উপস্থিতির ভিত্তি গড়ে তোলা।


