HCC ও Space Center Houston-এর নতুন অংশীদারিত্বের লক্ষ্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিক্স ও উদীয়মান প্রযুক্তিতে ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য STEM শিক্ষা জোরদার করা এবং কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি করা।
সুরাঙ্গন নিউজ ডেস্ক: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), রোবোটিক্স ও উদীয়মান প্রযুক্তিতে ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য STEM শিক্ষা জোরদার এবং কর্মসংস্থানের নতুন পথ তৈরি করতে হিউস্টন সিটি কলেজ (HCC) ও স্পেস সেন্টার হিউস্টনের মধ্যে একটি নতুন অংশীদারিত্ব গড়ে উঠেছে।
HCC-এর আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ডিগ্রি প্রোগ্রামের ইকোসিস্টেম ম্যানেজার রোন্ডা গ্লোভার বলেন, এই সহযোগিতার মাধ্যমে K–12 পর্যায়ের প্রোগ্রাম থেকে শুরু করে কর্মমুখী প্রশিক্ষণ ও শিল্পখাতের সঙ্গে সম্পৃক্ততা পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন ধরনের শিক্ষা ও ক্যারিয়ারের সুযোগ তৈরি হবে।

সম্প্রতি HCCTV-এর “Up 2 the Minute” অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে গ্লোভার বলেন, “হিউস্টন স্পেস সিটি। এই অংশীদারিত্ব মহাকাশ গবেষণা ও উদ্ভাবনে এ অঞ্চলের নেতৃত্বকে আরও এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি করছে।”
এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থী ও নিয়োগদাতাদের মধ্যে সরাসরি সংযোগ তৈরি করা এবং শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনের বিভিন্ন পর্যায় অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের সুযোগ নিশ্চিত করা। এর আওতায় গ্রীষ্মকালীন কর্মসূচি, ওয়ার্ক-স্টাডি অভিজ্ঞতা, কন্টিনিউয়িং এডুকেশন এবং ডিগ্রি প্রোগ্রামের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ধাপে ধাপে দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাবেন।
বর্তমানে বিভিন্ন ব্যবসা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান দ্রুত AI প্রযুক্তি গ্রহণ করছে। গ্লোভার বলেন, এসব প্রযুক্তি বাস্তবায়ন ও পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতাসম্পন্ন কর্মীর চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। এই চাহিদা পূরণে HCC Google-এর সহযোগিতায় “Train the Trainer” এবং Apple-এর সহায়তায় “Eagle Spark”-এর মতো প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালনা করছে।
তিনি জানান, HCC-এর শিক্ষার্থীরা AI-এর উন্নত ব্যবহার, বিশেষ করে Agentic AI এবং রোবোটিক্সের সঙ্গে AI-এর সমন্বয়সহ আধুনিক প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে। এর ফলে তারা শুধু প্রচলিত AI টুল ব্যবহারের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে ভবিষ্যতের উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর ক্যারিয়ারের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে।
Space Center Houston-এর সঙ্গে অংশীদারিত্বের ফলে শিক্ষার্থীরা স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা, রোবোটিক্স এবং মহাকাশ গবেষণাসংক্রান্ত বাস্তব সমস্যার সমাধানে তাদের অর্জিত প্রযুক্তিগত দক্ষতা প্রয়োগের সুযোগও পাবে।
গ্লোভার বলেন, “আমরা শিক্ষার্থীদের বাস্তব সমস্যার সমাধান করতে এবং এমন সব উদীয়মান প্রযুক্তিকে এগিয়ে নিতে প্রস্তুত করছি, যা ভবিষ্যতে মহাকাশ ও এয়ারোস্পেসসহ বিভিন্ন শিল্পের গতিপথ নির্ধারণ করবে।”

তিনি আরও বলেন, নিয়োগদাতারা এখন নির্দিষ্ট ও উন্নত প্রযুক্তিগত দক্ষতাসম্পন্ন কর্মী খুঁজছেন। ফলে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অংশীদারিত্বের গুরুত্বও বাড়ছে। Google, Apple ও Tesla-এর মতো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে HCC-এর বিভিন্ন সহযোগিতা এবং কলেজটির বৃহৎ শিক্ষার্থীসংখ্যা হিউস্টন অঞ্চলে দক্ষ জনবল তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে HCC-কে আরও শক্তিশালী করছে।
AI কর্মসংস্থানে কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে, এমন উদ্বেগের বিষয়ে গ্লোভার বলেন, নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া এবং কর্মক্ষেত্রে প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে নিজের দক্ষতার মূল্য বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
তিনি বলেন, “AI কাজ করার পদ্ধতি পরিবর্তন করছে। তবে যারা কার্যকরভাবে এসব প্রযুক্তি ব্যবহার করতে শিখবে, ভবিষ্যতের কর্মসংস্থানের সুযোগের জন্য তারা আরও ভালোভাবে প্রস্তুত থাকবে।”
হিউস্টন সিটি কলেজ বর্তমানে Artificial Intelligence and Robotics বিষয়ে ব্যাচেলর ডিগ্রি প্রদান করছে। দ্রুত বিকাশমান এই প্রযুক্তিখাতে শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় দক্ষতা গড়ে তোলার পাশাপাশি হিউস্টন অঞ্চলের ক্রমবর্ধমান প্রযুক্তিগত জনবল চাহিদা পূরণেও এ কর্মসূচি ভূমিকা রাখছে।


