নতুন ফেডারেল বিধিতে USCIS-কে নির্দিষ্ট অভিবাসন আবেদন অনলাইন করার ক্ষমতা
সুরাঙ্গন নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় কাগজের ফর্ম, ডাকযোগে আবেদন এবং লকবক্স-নির্ভর প্রক্রিয়া ধীরে ধীরে কমিয়ে অনলাইন ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। নতুন একটি ফেডারেল বিধির মাধ্যমে ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (USCIS)-কে ভবিষ্যতে নির্দিষ্ট কিছু অভিবাসন আবেদন শুধু অনলাইনে জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নতুন বিধি কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কোনো নির্দিষ্ট অভিবাসন ফর্মের কাগজে আবেদন বন্ধ হয়ে যায়নি। বরং ভবিষ্যতে কোন ফর্মে অনলাইন আবেদন বাধ্যতামূলক করা হবে, সে জন্য একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া তৈরি করা হয়েছে।
১১ আগস্ট থেকে কার্যকর নতুন বিধি
হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (DHS) ‘Mandatory Electronic Filing (e-Filing)’ নামে একটি অন্তর্বর্তী চূড়ান্ত বিধি জারি করেছে। বিধিটি ১১ আগস্ট ২০২৬ থেকে কার্যকর হয়েছে। এ বিষয়ে জনমত দেওয়ার শেষ তারিখ ১৩ অক্টোবর ২০২৬।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনো অভিবাসন ফর্ম অনলাইনে জমা দেওয়ার সুযোগ চালুর পর অন্তত ১৮০ দিন না পেরোনো পর্যন্ত USCIS সেটিকে বাধ্যতামূলকভাবে অনলাইন করতে পারবে না। কোনো ফর্মের ক্ষেত্রে অনলাইন আবেদন বাধ্যতামূলক করার আগে USCIS-কে অন্তত ৬০ দিনের আগাম নোটিশ দিতে হবে।
অর্থাৎ, বর্তমানে কাগজে আবেদন করার সুযোগ থাকা কোনো নির্দিষ্ট ফর্ম সম্পর্কে হঠাৎ করে নতুন নিয়ম কার্যকর হচ্ছে না। USCIS যখন কোনো ফর্মের জন্য অনলাইন আবেদন বাধ্যতামূলক করবে, তখন আলাদা করে তারিখ ও নির্দেশনা প্রকাশ করবে।
কোন কোন আবেদন ভবিষ্যতে প্রভাবিত হতে পারে?
USCIS-এর তথ্য অনুযায়ী, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত ২২টি ফর্মে অনলাইন দাখিলের সুবিধা ছিল। এসব ফর্মের মধ্যে রয়েছে গ্রিন কার্ড প্রতিস্থাপনের I-90, পারিবারিক অভিবাসন আবেদনের I-130, স্ট্যাটাস পরিবর্তনের I-485, কর্মসংস্থান অনুমোদনের I-765, নাগরিকত্বের N-400 এবং আশ্রয়ের I-589।
এ ছাড়া নির্দিষ্ট অন্যান্য অভিবাসন সুবিধার আবেদনও ভবিষ্যতে এই ব্যবস্থার আওতায় আসতে পারে। তবে নতুন বিধিটি নিজে থেকে এসব ফর্মের কোনো একটিকেও এখনই অনলাইন-অনলি ঘোষণা করেনি।
কেন অনলাইন ব্যবস্থার দিকে যাচ্ছে সরকার?
DHS-এর যুক্তি হলো, কাগজভিত্তিক আবেদন গ্রহণ ও প্রক্রিয়াকরণে USCIS-কে মেইল, কাগজপত্র এবং শারীরিক লকবক্স ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করতে হয়। এতে প্রশাসনিক ব্যয় ও প্রক্রিয়াকরণের সময় বাড়ে।
ডিজিটাল ব্যবস্থায় আবেদনকারীর তথ্য দ্রুত পাওয়া, প্রাথমিক ভুল শনাক্ত করা এবং আবেদন গ্রহণের প্রক্রিয়া আরও কার্যকর করার সুযোগ রয়েছে। অনলাইন ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচয় যাচাই, নিরাপত্তা পরীক্ষা এবং সম্ভাব্য জালিয়াতি শনাক্তকরণেও সুবিধা হতে পারে বলে DHS মনে করছে।
USCIS-এর অনলাইন অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে আবেদনকারীরা সরাসরি ফর্ম পূরণ করতে পারবেন। কিছু ক্ষেত্রে পূরণ করা PDF ফর্ম ও সহায়ক নথিও অনলাইনে আপলোড করার সুযোগ থাকবে।
ডিজিটাল ব্যবস্থায় চ্যালেঞ্জও রয়েছে
অনলাইন আবেদন বাধ্যতামূলক হলে প্রবীণ, স্বল্প আয়ের মানুষ, সীমিত ডিজিটাল দক্ষতার আবেদনকারী এবং প্রযুক্তিগত সুবিধা থেকে বঞ্চিত ব্যক্তিদের জন্য নতুন সমস্যা তৈরি হতে পারে।
এ কারণে নতুন বিধিতে অনলাইনে আবেদন করতে না পারা ব্যক্তিদের জন্য অব্যাহতি বা waiver-এর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। USCIS কোনো নির্দিষ্ট ফর্মে বাধ্যতামূলক ই-ফাইলিং চালু করার আগে এ ধরনের waiver প্রক্রিয়া কার্যকর করার ব্যবস্থা রাখবে। আবেদনকারীর পরিস্থিতি, প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকার এবং আর্থসামাজিক অবস্থাসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হতে পারে।
তবে শুধু অনলাইন ব্যবস্থায় অভ্যস্ত না হওয়া বা সাধারণভাবে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে অসুবিধা হওয়া স্বয়ংক্রিয়ভাবে অব্যাহতি পাওয়ার নিশ্চয়তা দেয় না। আবেদনকারীকে কেন অনলাইনে আবেদন করা তার জন্য বাস্তবিকভাবে কঠিন বা অসম্ভব, তা ব্যাখ্যা করতে হতে পারে।
অভিবাসীদের জন্য এখন কী গুরুত্বপূর্ণ?
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বর্তমান ফাইলিং নির্দেশনা অনুসরণ করা এবং USCIS-এর নতুন নোটিশ নিয়মিত দেখা।
কোনো ফর্মের ক্ষেত্রে অনলাইন আবেদন বাধ্যতামূলক হলে USCIS তার ওয়েবসাইটে নির্দিষ্ট নির্দেশনা ও কার্যকর তারিখ প্রকাশ করবে। তাই আগের কোনো আবেদনে কাগজে ফর্ম জমা দেওয়া হয়েছিল বলে ভবিষ্যতেও একই পদ্ধতি ব্যবহার করা যাবে, এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।
বিশেষ করে গ্রিন কার্ড নবায়ন, নাগরিকত্বের আবেদন, পারিবারিক অভিবাসন, স্ট্যাটাস পরিবর্তন, কর্মসংস্থান অনুমোদন বা আশ্রয়-সংক্রান্ত আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট ফর্মের সর্বশেষ USCIS filing instructions দেখে নেওয়া জরুরি।
সামনে কী হতে পারে?
নতুন বিধিটি যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থাকে কাগজভিত্তিক প্রক্রিয়া থেকে আরও ব্যাপকভাবে ডিজিটাল ব্যবস্থায় নেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে এর বাস্তব প্রভাব নির্ভর করবে USCIS কোন কোন ফর্মে এবং কখন বাধ্যতামূলক অনলাইন আবেদন চালু করে তার ওপর।
অতএব, এখনই সব অভিবাসন আবেদন অনলাইনে বাধ্যতামূলক হয়ে যায়নি। কিন্তু নতুন বিধি USCIS-কে ভবিষ্যতে সেই পরিবর্তন বাস্তবায়নের জন্য একটি সুস্পষ্ট আইনি কাঠামো দিয়েছে।
অভিবাসীদের জন্য তাই এখন থেকেই অনলাইন USCIS অ্যাকাউন্ট ব্যবহারে অভ্যস্ত হওয়া, প্রয়োজনীয় নথি ডিজিটালভাবে সংরক্ষণ করা এবং USCIS-এর পরিবর্তিত নির্দেশনা নিয়মিত অনুসরণ করা গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র: U.S. Department of Homeland Security, U.S. Citizenship and Immigration Services (USCIS), Federal Register.


