সুরাঙ্গন নিউজ ডেস্ক: সাম্য, ত্যাগ ও মানবিকতার বার্তা নিয়ে বছর ঘুরে আবার এসেছে পবিত্র ঈদুল আজহা। মুসলমানদের জীবনে বছরে দুটি প্রধান আনন্দ-উৎসবের একটি ঈদুল আজহা। হিজরি বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী, জিলহজ মাসের ১০ তারিখে ঈদুল আজহা উদ্যাপিত হয়। ঈদুল ফিতরের মতো এ ঈদে আগের দিন চাঁদ দেখা নিয়ে ঔৎসুক্য থাকে না; ১০ দিন আগেই ঈদের তারিখ নির্ধারিত হয়ে যায়। সে অনুযায়ী পশু কেনা থেকে শুরু করে গ্রামের বাড়িতে ফেরা সব ধরনের প্রস্তুতি আগেভাগেই সেরে নেন মানুষ।
যুক্তরাষ্ট্রের Houston শহরে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হয়েছে। বুধবার, ২৭শে মে সকালে শহরের বিভিন্ন মসজিদ ও ঈদগাহে হাজারো মুসল্লি ঈদের নামাজ আদায় করেন।
পবিত্র ঈদুল আজহা মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। এটি ত্যাগ, আনুগত্য, আত্মসংযম, ধনী-গরিবের মাঝে সম্প্রীতি ও সহমর্মিতা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের মহান শিক্ষা বহন করে। ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী, মহান আল্লাহর নির্দেশে হযরত Ibrahim (আ.) তাঁর প্রিয় পুত্র হযরত Ismail (আ.)-কে কোরবানি করার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। তাঁর এই অনন্য আনুগত্য ও আত্মত্যাগের মানসিকতায় সন্তুষ্ট হয়ে আল্লাহ তাআলা পুত্রের পরিবর্তে একটি পশু কোরবানির ব্যবস্থা করেন।

এই ঘটনার স্মরণে মুসলমানরা প্রতি বছর জিলহজ মাসের ১০ তারিখে ঈদুল আজহা উদযাপন করেন এবং সামর্থ্য অনুযায়ী পশু কোরবানি করেন। কোরবানির মাধ্যমে মানুষ আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা, ত্যাগের মনোভাব ও মানবতার শিক্ষা গ্রহণ করে।
ঈদুল আজহা উপলক্ষে, বাংলাদেশ ঈদ নামাজ কমিটির উদ্যোগে, বাংলাদেশ আমেরিকান সেন্টারে (BAC) ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি এসব জামাতে অংশগ্রহণ করেন। সকাল আটটায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
নামাজ শেষে মুসল্লিরা একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। পরে ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী কোরবানি দেওয়া হয়। স্থানীয় বাংলাদেশি, পাকিস্তানি, আরব ও অন্যান্য মুসলিম কমিউনিটির সদস্যরা পরিবার-পরিজন নিয়ে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করেন।
শহরের বিভিন্ন ইসলামিক সেন্টার ও কমিউনিটি সংগঠন ঈদ উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠান, শিশুদের খেলাধুলা এবং খাবারের আয়োজন করে। প্রবাসী বাংলাদেশিরা জানান, দেশের বাইরে থাকলেও ঈদের আনন্দ ও ধর্মীয় আবহ ধরে রাখতে তারা একসঙ্গে উদযাপনের চেষ্টা করেন।
স্থানীয় প্রশাসনও ঈদের জামাত ও অনুষ্ঠানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করে। মুসলিম সম্প্রদায়ের নেতারা ঈদুল আজহার মূল শিক্ষা ত্যাগ, সহমর্মিতা ও মানবসেবার বার্তা সবার মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।

