সুরাঙ্গন নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন আশির দশকের আবহে তৈরি ছবি বেশ জনপ্রিয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে অনেকেই নিজেদের বর্তমান ছবিকে কয়েক দশক আগের রূপ দিচ্ছেন। এসব ছবিতে বেলবটম প্যান্ট, বড় চুল, উজ্জ্বল রং, বড় কানের দুল, পুরোনো দিনের ঘড়ি ও টেপ রেকর্ডারের মতো নানা অনুষঙ্গ দেখা যাচ্ছে।

১৯৮২ সালে ভারতের কলকাতার একটি রাস্তায় ক্রিকেট খেলছেন কয়েকজন তরুণ; ছবিতে সে সময়ের তরুণদের পোশাক ও চুলের ধরনও দেখা যাচ্ছে
তবে এআইয়ের ছবিতে উঠে আসা আশির দশকের ফ্যাশন বাস্তবের সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না।
ফ্যাশন ডিজাইনার লিপি খন্দকারের স্মৃতিতে, বাংলাদেশে আশির দশকে চুলের স্টেপ কাট, ছেলেদের বড় চুল, বেলবটম বা ঢিলেঢালা প্যান্ট এবং ফিটিং শার্ট জনপ্রিয় ছিল। নারীদের পোশাকে ‘ম্যাগি হাতা’, সালোয়ার-কামিজ, শিফন ও তাঁতের শাড়ি, স্কার্ট-টপস, পলকা ডট এবং বড় গোলাকার কানের দুলের চল ছিল। পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে জুতা ও গয়না ব্যবহারের প্রবণতাও ছিল।
আন্তর্জাতিকভাবে ওই দশকের ফ্যাশনে উজ্জ্বল রং, চওড়া কাঁধ, বড় ও ফোলানো হাতা এবং বড় আকারের অলংকারের ব্যবহার দেখা যায়। নারীদের মধ্যে ‘পাওয়ার স্যুট’ ও ‘পাওয়ার ড্রেসিং’-ও জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
চলচ্চিত্র সমালোচক বিধান রিবেরুর মতে, এআইয়ের ছবি আশির দশককে শতভাগ তুলে ধরতে না পারলেও সেই সময়ের ফ্যাশন ও সংস্কৃতির একটি ধারণা দেয়। সিনেমা, টেলিভিশন, পত্রপত্রিকা ও জনপ্রিয় সংস্কৃতি তখন নতুন ফ্যাশন ছড়িয়ে দেওয়ার প্রধান মাধ্যম ছিল। বলিউডের তারকা এবং পশ্চিমা টেলিভিশন সিরিজও বাংলাদেশের তরুণদের পোশাক ও চুলের স্টাইলে প্রভাব ফেলত।
তবে আশির দশকের সবাই একই ধরনের পোশাক পরতেন না। পরিবার, সামাজিক পরিবেশ ও ব্যক্তিগত পছন্দের ওপর ফ্যাশন অনুসরণের বিষয়টি নির্ভর করত।
এআইয়ের ছবিতে প্রায় একই ধরনের পোশাক ও সাজ বারবার দেখা যাওয়ার কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা জেনারেটিভ এআই মডেলের সীমাবদ্ধতার কথা বলছেন। পর্যাপ্ত ও বৈচিত্র্যময় তথ্যের অভাবে মডেল ‘আশির দশক’ বোঝাতে পরিচিত কিছু বৈশিষ্ট্যই বারবার ব্যবহার করতে পারে।
অর্থাৎ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এআই ছবি আশির দশকের ফ্যাশনের একটি নস্টালজিক চিত্র তুলে ধরলেও সেটিকে ওই সময়ের বাস্তব পোশাক-পরিচ্ছদের পূর্ণাঙ্গ দলিল হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।


