জরুরি অবস্থা জারি, উপকূলীয় এলাকায় প্লাবন; যোগাযোগ ও পরিবহন ব্যবস্থায় ব্যাপক বিঘ্ন
সুরাঙ্গন নিউজ ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে শক্তিশালী নর’ইস্টারের আঘাতে নিউইয়র্ক ও নিউজার্সির উপকূলীয় এলাকায় ব্যাপক বন্যা, জলোচ্ছ্বাস, প্রবল বাতাস ও বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে। ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই ঝড়ের প্রভাবে জনজীবন ও পরিবহনব্যবস্থায় ব্যাপক বিঘ্ন ঘটে। পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় নিউইয়র্কের একাধিক কাউন্টি এবং নিউজার্সির আটটি কাউন্টিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়।
নিউজার্সিতে গভর্নর মিকি শেরিল ২৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৫টা থেকে আটটি কাউন্টিতে জরুরি অবস্থা কার্যকর করেন। কাউন্টিগুলো হলো- আটলান্টিক, বার্লিংটন, কেপ মে, কাম্বারল্যান্ড, মিডলসেক্স, মনমাউথ, ওশান ও সালেম। রাজ্য কর্তৃপক্ষ জানায়, এসব এলাকায় প্রবল বাতাস, ভারী বৃষ্টিপাত, উপকূলীয় বন্যা ও সৈকত ক্ষয়ের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি ছিল।

নিউইয়র্কে গভর্নর ক্যাথি হোকুলের ঘোষিত দুর্যোগ জরুরি অবস্থার আওতায় ছিল ব্রঙ্কস, কিংস, নাসাউ, নিউইয়র্ক, কুইন্স, রিচমন্ড, সাফোক ও ওয়েস্টচেস্টার কাউন্টি এবং সংলগ্ন কিছু এলাকা। সরকারি নির্বাহী আদেশে ভারী বৃষ্টি, প্রবল বাতাস ও উপকূলীয় বন্যার কারণে সড়ক বন্ধ, যাতায়াত ব্যাহত এবং ব্যাপক বিদ্যুৎ বিভ্রাটের আশঙ্কার কথা উল্লেখ করা হয়।
ঝড়ের প্রভাবে লং আইল্যান্ড, নিউইয়র্ক সিটি ও নিউজার্সির উপকূলীয় নিম্নাঞ্চলের বিভিন্ন সড়ক পানিতে তলিয়ে যায়। কোথাও কোথাও জোয়ারের পানি ও বৃষ্টির পানিতে আবাসিক এলাকা প্লাবিত হয়। নিউজার্সির কয়েকটি উপকূলীয় এলাকায় উদ্ধারকারী দলকে পানিবন্দী বাসিন্দাদের সহায়তায় নামতে হয়েছে। সি ব্রাইট এলাকায় কয়েক ডজন মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার খবরও পাওয়া গেছে।
প্রবল বাতাসের কারণে গাছপালা উপড়ে পড়া ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনাও ঘটে। বিভিন্ন সময়ে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে এক লাখের বেশি গ্রাহক বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়েছিলেন বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। নিউইয়র্ক ও নিউজার্সির উপকূলীয় এলাকায় বাতাসের দমকা গতিবেগ ঘণ্টায় ৬০ মাইলের বেশি এবং নিউজার্সির সার্ফ সিটিতে প্রায় ৭৪ মাইল গতির দমকা বাতাস রেকর্ড করা হয়।
ঝড়ের কারণে বিমান, রেল, বাস ও সড়ক যোগাযোগেও ব্যাপক প্রভাব পড়ে। নিউইয়র্ক অঞ্চলের বিমানবন্দরগুলোতে ফ্লাইট বিলম্ব ও বাতিলের পাশাপাশি উপকূলীয় এলাকায় সড়ক বন্ধ ও যান চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলতে এবং আবহাওয়া ও জরুরি সতর্কবার্তা অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছে।

জাতীয় মহাসাগর ও বায়ুমণ্ডলীয় প্রশাসন (NOAA) এবং জাতীয় আবহাওয়া দপ্তর (NWS) ঝড় চলাকালে উপকূলীয় বন্যা, উচ্চ ঢেউ ও শক্তিশালী বাতাসের বিষয়ে সতর্কতা জারি করে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে থাকার এবং প্লাবিত সড়কে গাড়ি না চালানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ঝড়ের প্রভাব কমতে শুরু করলেও উপকূলীয় কিছু এলাকায় পানি জমে থাকা, বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় উদ্ধার ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ অব্যাহত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জরুরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।


