ডায়রিয়ায় পানিশূন্যতা ঠেকাতে সঠিক তরল দেওয়াই সবচেয়ে জরুরি
সুরাঙ্গন নিউজ ডেস্ক: শিশুর পেটের সমস্যা, বমি বা ডায়রিয়া হলে অভিভাবকদের প্রথম চিন্তা থাকে- কী খাওয়ালে দ্রুত সুস্থ হবে? মাঝে মাঝে পেটের গোলমাল সাধারণ কারণে হতে পারে। কিন্তু বারবার পেটব্যথা, বমি বা ডায়রিয়া হলে বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়। বিশেষ করে ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে ডায়রিয়া ও বমির কারণে খুব দ্রুত শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে।
এ সময় বিভিন্ন ঘরোয়া পানীয়ের পরিবর্তে শিশুর বয়স ও অবস্থার কথা বিবেচনা করে ওরাল রিহাইড্রেশন সলিউশন (ORS) দেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ORS শরীর থেকে হারিয়ে যাওয়া পানি ও লবণ পূরণে সাহায্য করে। শিশুকে একসঙ্গে বেশি না দিয়ে অল্প অল্প করে বারবার খাওয়ানো যেতে পারে। বমি হলে কিছুক্ষণ বিরতি দিয়ে আবার অল্প পরিমাণে তরল দেওয়া যায়।

১. ORS- প্রথম পছন্দ
ডায়রিয়া বা বমির সময় পানিশূন্যতা প্রতিরোধে ORS সবচেয়ে কার্যকর পানীয়গুলোর একটি। প্যাকেটের নির্দেশনা অনুযায়ী সঠিক পরিমাণ পরিষ্কার পানিতে ORS মিশিয়ে দিতে হবে। তৈরি করা ORS কতক্ষণ ব্যবহার করা যাবে, সে বিষয়েও প্যাকেটের নির্দেশনা মেনে চলা জরুরি।
২. বুকের দুধ
শিশু যদি মায়ের দুধ পান করে, ডায়রিয়া বা বমির সময়ও বুকের দুধ চালিয়ে যাওয়া উচিত। শিশুর শরীরে তরল ও পুষ্টি সরবরাহে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বমি থাকলেও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অল্প অল্প করে বারবার খাওয়ানো যেতে পারে।
৩. স্বাভাবিক তরল ও বয়স উপযোগী খাবার

শিশুর বয়স অনুযায়ী পানি এবং অন্যান্য স্বাভাবিক তরল দেওয়া যেতে পারে। ডায়রিয়ার সময় শুধু তরল নয়, শিশুর সহনীয় স্বাভাবিক খাবারও চালিয়ে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ। তবে অতিরিক্ত মিষ্টি পানীয়, কোমল পানীয় বা অতিরিক্ত ফলের রস না দেওয়াই ভালো, কারণ এগুলো ডায়রিয়া আরও বাড়াতে পারে।
আদা-লেবু বা ডাব-তরমুজের পানীয়?
আদা-লেবুর জল বা ডাব-তরমুজের মতো ঘরোয়া পানীয় স্বাভাবিক অবস্থায় কিছু শিশুর কাছে গ্রহণযোগ্য হতে পারে, কিন্তু ডায়রিয়া বা বমির চিকিৎসা হিসেবে এগুলোকে ORS-এর বিকল্প মনে করা উচিত নয়। বিশেষ করে খুব ছোট শিশুকে নতুন কোনো পানীয় বা ঘরোয়া মিশ্রণ দেওয়ার আগে শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া নিরাপদ।
কখন দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে?
শিশু বারবার বমি করলে, তরল পান করতে না পারলে, খুব কম প্রস্রাব হলে, মুখ শুকিয়ে গেলে, চোখ বসে গেলে, অতিরিক্ত নিস্তেজ বা ঘুমঘুম ভাব দেখা দিলে, পায়খানায় রক্ত থাকলে কিংবা ডায়রিয়া দীর্ঘস্থায়ী হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। খুব ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে পানিশূন্যতার লক্ষণ দেখা দিলে অপেক্ষা না করাই ভালো।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের ডায়রিয়া ও বমির ক্ষেত্রে লক্ষ্য হওয়া উচিত শুধু “পেট ভালো রাখা” নয় – শরীরে পানি ও প্রয়োজনীয় লবণের ঘাটতি পূরণ করা এবং গুরুতর অসুস্থতার লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া।


