সুরাঙ্গন নিউজ ডেস্ক: কী খাচ্ছেন, কতটা খাচ্ছেন- স্বাস্থ্য ভালো রাখার ক্ষেত্রে এই দুই বিষয়ের গুরুত্ব আমরা সবাই জানি। কিন্তু কখন খাচ্ছেন, সেটিও কি গুরুত্বপূর্ণ? সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, খাবারের সময়ের সঙ্গে হৃদ্যন্ত্র ও রক্তনালির স্বাস্থ্যের একটি সম্পর্ক থাকতে পারে।
অফিস থেকে বাড়ি ফিরতে দেরি, দীর্ঘ যাতায়াত কিংবা দিনের ব্যস্ততার কারণে অনেকেই রাতের খাবার সারেন বেশ দেরিতে। কেউ আবার দিনের ব্যস্ততায় ঠিকমতো খেতে না পেরে রাতে বাড়ি ফিরে বেশি পরিমাণে খাবার খান। এই অভ্যাস শুধু হজম বা ঘুমের ওপরই নয়, দীর্ঘমেয়াদে কার্ডিয়োভাসকুলার স্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন গবেষকেরা।
২০২৩ সালে ‘নেচার কমিউনিকেশনস’-এ প্রকাশিত একটি পর্যবেক্ষণমূলক গবেষণায় এক লাখেরও বেশি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের খাবারের সময় ও কার্ডিয়োভাসকুলার রোগের ঝুঁকির মধ্যে সম্পর্ক পরীক্ষা করা হয়। প্রায় ১,০৩,৩৮৯ জনকে গড়ে ৭.২ বছর পর্যবেক্ষণ করা হয়। এ সময় ২,০৩৬টি নতুন কার্ডিয়োভাসকুলার ঘটনার তথ্য নথিভুক্ত হয়।
গবেষণায় দেখা যায়, সকালে প্রথম খাবার গ্রহণে দেরি করা এবং রাতে শেষ খাবার দেরিতে খাওয়ার সঙ্গে কার্ডিয়োভাসকুলার রোগের ঝুঁকির একটি সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষ করে রাত ৯টার পর শেষ খাবার গ্রহণকারীদের মধ্যে ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। অন্যদিকে, রাত ৮টার আগে রাতের খাবার শেষ করার সঙ্গে তুলনামূলক কম ঝুঁকির সম্পর্ক পাওয়া যায়। এই সম্পর্ক নারীদের ক্ষেত্রে আরও স্পষ্ট ছিল।
তবে গবেষণাটির একটি গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতা মনে রাখা দরকার। এটি পর্যবেক্ষণমূলক গবেষণা। অর্থাৎ দেরিতে খাওয়া এবং হৃদ্রোগের মধ্যে সম্পর্ক পাওয়া গেছে, কিন্তু দেরিতে খাবার খাওয়াই যে সরাসরি হৃদ্রোগের কারণ -গবেষণা তা প্রমাণ করেনি।
শরীরের ‘অভ্যন্তরীণ ঘড়ি’ কেন গুরুত্বপূর্ণ?
মানবদেহের নিজস্ব প্রায় ২৪ ঘণ্টার জৈবিক ছন্দ রয়েছে, যাকে বলা হয় সার্কাডিয়ান রিদম। ঘুম, হরমোন নিঃসরণ, রক্তচাপ এবং বিপাকীয় কার্যকলাপের সঙ্গে এই অভ্যন্তরীণ ঘড়ির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।

রাত গভীর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের বিপাকীয় কার্যকলাপও পরিবর্তিত হয়। তাই দিনের তুলনায় গভীর রাতে খাবার গ্রহণ করলে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ, ইনসুলিনের কার্যকারিতা এবং অন্যান্য বিপাকীয় প্রক্রিয়ায় প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করা হয়।
তাহলে রাতের খাবারের সঠিক সময় কোনটি?
সবার জীবনযাত্রা এক নয়। তাই সবার জন্য একই নির্দিষ্ট সময়কে ‘সঠিক’ বলা কঠিন। তবে সম্ভব হলে ঘুমাতে যাওয়ার বেশ কয়েক ঘণ্টা আগে রাতের খাবার শেষ করা এবং প্রতিদিন মোটামুটি একই সময়ে খাবার খাওয়ার অভ্যাস করা ভালো।
যাঁদের পক্ষে সন্ধ্যার দিকে খাবার খাওয়া সম্ভব নয়, তাঁরা দেরিতে খেলেও অতিরিক্ত ভারী খাবার এড়িয়ে চলতে পারেন। রাত ৯টার আগে খাবার শেষ করা সম্ভব হলে তা একটি বাস্তবসম্মত লক্ষ্য হতে পারে। তবে শুধু খাবারের সময় নয়- খাবারের মান, পরিমাণ, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম, পর্যাপ্ত ঘুম এবং সামগ্রিক জীবনযাপনও হৃদ্স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সুতরাং, রাতের খাবারের ক্ষেত্রে লক্ষ্য হওয়া উচিত- খুব দেরি না করা, অতিরিক্ত না খাওয়া এবং নিজের দৈনন্দিন রুটিনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একটি নিয়মিত সময় মেনে চলা।


