Some Populer Post

Latest News

TARANG - 26-এ ঐতিহ্যের শিকড়ে নতুন প্রজন্মের উচ্ছ্বাস | নোবেল শান্তি পুরস্কার ঘিরে জল্পনা, আলোচনায় ট্রাম্প ও আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন | মাত্র ৩০ সেকেন্ডের যে অভ্যাস আপনার মুড ভালো করে দিতে পারে | ২০২৭ ক্রিকেট বিশ্বকাপের সূচি ঘোষণা, ১০ অক্টোবর পাকিস্তানের মুখোমুখি ভারত | মার্কিন ভিসা নিয়ে বাড়ছে নানা প্রশ্ন: ভারতীয় ও বাংলাদেশিদের করণীয় | TARANG - 26-এ ঐতিহ্যের শিকড়ে নতুন প্রজন্মের উচ্ছ্বাস | নোবেল শান্তি পুরস্কার ঘিরে জল্পনা, আলোচনায় ট্রাম্প ও আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন | মাত্র ৩০ সেকেন্ডের যে অভ্যাস আপনার মুড ভালো করে দিতে পারে | ২০২৭ ক্রিকেট বিশ্বকাপের সূচি ঘোষণা, ১০ অক্টোবর পাকিস্তানের মুখোমুখি ভারত | মার্কিন ভিসা নিয়ে বাড়ছে নানা প্রশ্ন: ভারতীয় ও বাংলাদেশিদের করণীয় |
  • Home  
  • দুর্গাপুজো ঘিরে আমেরিকায় বাংলার মাটির গন্ধ
- ধর্ম

দুর্গাপুজো ঘিরে আমেরিকায় বাংলার মাটির গন্ধ

হিউস্টনে একের পর এক পূজামণ্ডপে উৎসবের প্রস্তুতি: প্রবাসে শেকড়ের টানে ফিরছে বাংলার শরৎ সুরাঙ্গন নিউজ ডেস্ক: আমেরিকার মাটিতে শরতের আকাশ যখন বদলে যায়, হিউস্টনের বাঙালিদের মনেও তখন ভেসে ওঠে অন্য এক ভূগোল বাংলার। সাদা মেঘ, শরতের নীল আকাশ, শিউলির গন্ধ, ঢাকের শব্দ আর মায়ের আগমনী; হাজার হাজার মাইল দূরে থেকেও দুর্গাপূজার আবহ যেন বাঙালির স্মৃতিতে […]

হিউস্টনে একের পর এক পূজামণ্ডপে উৎসবের প্রস্তুতি: প্রবাসে শেকড়ের টানে ফিরছে বাংলার শরৎ

সুরাঙ্গন নিউজ ডেস্ক: আমেরিকার মাটিতে শরতের আকাশ যখন বদলে যায়, হিউস্টনের বাঙালিদের মনেও তখন ভেসে ওঠে অন্য এক ভূগোল বাংলার। সাদা মেঘ, শরতের নীল আকাশ, শিউলির গন্ধ, ঢাকের শব্দ আর মায়ের আগমনী; হাজার হাজার মাইল দূরে থেকেও দুর্গাপূজার আবহ যেন বাঙালির স্মৃতিতে অমলিন। শরতের সেই আবেগকে ঘিরে এবারও গ্রেটার হিউস্টনে শুরু হয়েছে দুর্গোৎসবের ব্যাপক প্রস্তুতি। বিভিন্ন সংগঠনের আয়োজনে অক্টোবরজুড়ে চলবে পূজা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, অঞ্জলি, প্রসাদ, সিঁদুর খেলা ও বিজয়া দশমীর আয়োজন।

হিউস্টন দুর্গাবাড়িতে শুরু হয়েছে শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি

প্রতি বছর হিউস্টন দুর্গাবাড়ি হয়ে ওঠে প্রবাসী বাঙালির অন্যতম প্রধান মিলনস্থল। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়। পূজাকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে সাংগঠনিক ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম এগিয়ে চলছে। গত ৯ আগস্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘Puja Curtain Raiser’ যার মধ্য দিয়ে এবারের দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি আরও গতি পেয়েছে। এখন অপেক্ষা সেই বহু প্রতীক্ষিত দিনগুলোর, যখন পূজামণ্ডপে একত্রিত হবেন হিউস্টনের বিভিন্ন প্রান্তে বসবাসকারী বাঙালি পরিবারগুলো।

দুর্গাবাড়ির প্রকাশিত সূচি অনুযায়ী, ১১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে মহালয়া ও আনন্দমেলা। এর মধ্য দিয়েই উৎসবের আবহ আরও ঘনীভূত হবে। এরপর ১৬ অক্টোবর সন্ধ্যা থেকে শুরু হবে দুর্গাপূজার মূল আয়োজন, যা চলবে ১৭ ও ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত। পূজার পর্ব শেষ হলেও উৎসবের রেশ থাকবে আরও কিছুদিন। ২৪ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে দশমী ও সিঁদুর খেলার আয়োজন।

তবে হিউস্টন দুর্গাবাড়ির দুর্গাপূজা শুধু পূজা-পার্বণের আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ নয়। এটি প্রবাসী বাঙালির সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পূজার দিনগুলোতে অঞ্জলি, প্রসাদ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, পরিচিতজনদের সঙ্গে দেখা হওয়া এবং নতুন-পুরোনো প্রজন্মের মিলন; সব মিলিয়ে দুর্গাবাড়ি পরিণত হয় এক প্রাণবন্ত বাঙালি মিলনমেলায়।

এই আয়োজনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোর একটি হলো নতুন প্রজন্মের অংশগ্রহণ। হিউস্টনে জন্ম ও বেড়ে ওঠা অনেক শিশু-কিশোরের কাছে দুর্গাপূজার অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের গ্রাম কিংবা কলকাতার পুজোমণ্ডপের স্মৃতির মতো নয়। তাদের কাছে দুর্গাবাড়িই হয়ে উঠেছে বাংলা সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা। বাবা-মায়ের সঙ্গে পূজায় এসে তারা শেখে অঞ্জলি, শোনে বাংলা গান, দেখে নৃত্য ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, আর ধীরে ধীরে পরিচিত হয় বাঙালির উৎসব ও ঐতিহ্যের সঙ্গে।

১০ অক্টোবর বেদান্ত সোসাইটিতে একদিনেই দেবীর আরাধনা

গ্রেটার হিউস্টনের দুর্গাপূজার আয়োজনে একটি স্বতন্ত্র মাত্রা যোগ করে Vedanta Society of Greater Houston-এর একদিনের দুর্গাপূজা। এবার ১০ অক্টোবর, শনিবার সোসাইটির নিজস্ব কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে এই বিশেষ আয়োজন। সকাল ৯টা ৩০ মিনিট থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত চলবে পূজার অনুষ্ঠান। অন্যান্য অনেক পূজার মতো কয়েক দিনব্যাপী উৎসবের পরিবর্তে বেদান্ত সোসাইটির আয়োজনটি মূলত আধ্যাত্মিকতা, শৃঙ্খলা ও ভক্তিনির্ভর পরিবেশকে কেন্দ্র করে সাজানো। বেলুড় মঠের ভাবধারায় পরিচালিত এই পূজায় দেবী দুর্গার আরাধনার পাশাপাশি থাকবে প্রার্থনা, পূজার্চনা ও ভক্তিমূলক পরিবেশ। ফলে ভক্তদের কাছে এটি শুধু একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং আত্মিক প্রশান্তি ও অন্তর্দর্শনেরও একটি বিশেষ সুযোগ।

বেদান্ত সোসাইটির এই আয়োজনের বৈশিষ্ট্য হলো এর সরলতা ও আধ্যাত্মিক আবহ। ব্যস্ত প্রবাসজীবনের মধ্যেও এক সকালে পূজার মাধ্যমে ভক্তরা দেবীর সান্নিধ্য ও রামকৃষ্ণ-বিবেকানন্দের আদর্শের সঙ্গে নিজেদের পুনরায় যুক্ত করার সুযোগ পান। হিউস্টনের বাঙালি ও ভারতীয় সম্প্রদায়ের পাশাপাশি বিভিন্ন সংস্কৃতির মানুষের কাছেও এই আয়োজন বিশেষ আকর্ষণ তৈরি করে।

১৫-১৮ অক্টোবর SDKKM-এ দুর্গোৎসব

হিউস্টনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন SDKKM-এর দুর্গাপূজা। এবার ১৫ থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে এই পূজা। কয়েক দিনব্যাপী আয়োজনে ধর্মীয় অনুষ্ঠানের পাশাপাশি ভক্ত ও দর্শনার্থীদের জন্য বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মসূচি থাকবে। ২৪ অক্টোবর বিজয়া দশমী উপলক্ষে বিশেষ আয়োজনও অনুষ্ঠিত হবে।

১৬-১৮ অক্টোবর Mantra Pearland-এ পূজা

পিয়ারল্যান্ড ও আশপাশের এলাকার বাঙালি পরিবারগুলোর জন্য Mantra Pearland-এর দুর্গাপূজা হবে আরেকটি বড় আকর্ষণ। এখানে ১৬ থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে দুর্গোৎসব। পূজার আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি পরিবার, বন্ধু ও কমিউনিটির মানুষের মিলনকে কেন্দ্র করে তৈরি হবে উৎসবমুখর পরিবেশ।

২৩-২৪ অক্টোবর Bangladesh Puja Parishad-এর আয়োজন

হিউস্টনের শারদীয় উৎসবের শেষ দিকের অন্যতম আয়োজন Bangladesh Puja Parishad-এর দুর্গাপূজা, যা অনুষ্ঠিত হবে ২৩ ও ২৪ অক্টোবর। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রবাসী পরিবারগুলোর কাছে এই আয়োজন শারদীয় উৎসবের আবেগ ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের সঙ্গে বিশেষভাবে যুক্ত। ২৪ অক্টোবর বিজয়া দশমীর আবহে পূজার সমাপ্তি ঘটবে।

এক শহর, বহু পূজামণ্ডপ- একই আবেগ

গ্রেটার হিউস্টনে বিভিন্ন সংগঠনের পূজার সময়সূচিতে পার্থক্য থাকলেও মূল আবেগ এক- প্রবাসে বাংলা সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে ধরে রাখা। অক্টোবরের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বিভিন্ন মন্দির, সংগঠন ও কমিউনিটি কেন্দ্রে দুর্গাপূজার আয়োজন হওয়ায় হিউস্টনের বাঙালিদের জন্য পুরো মাসজুড়েই তৈরি হবে উৎসবের আবহ।

এই আয়োজনগুলোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোর একটি হলো নতুন প্রজন্মের অংশগ্রহণ। হিউস্টনে জন্ম ও বেড়ে ওঠা অনেক শিশু-কিশোরের কাছে দুর্গাপূজার অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের গ্রাম কিংবা কলকাতার পূজামণ্ডপের স্মৃতির মতো নয়। তাদের কাছে হিউস্টনের পূজামণ্ডপই হয়ে উঠেছে বাংলা সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ জায়গা। বাবা-মায়ের সঙ্গে পূজায় এসে তারা শেখে অঞ্জলি, শোনে বাংলা গান, দেখে নৃত্য ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং ধীরে ধীরে পরিচিত হয় বাঙালির উৎসব ও ঐতিহ্যের সঙ্গে।

প্রবাসে এই সাংস্কৃতিক ধারাবাহিকতা ধরে রাখা সহজ নয়। ভিন্ন ভাষা, ভিন্ন সংস্কৃতি ও ব্যস্ত জীবনযাত্রার মাঝেও দুর্গাপূজা সেই দূরত্ব কমিয়ে দেয়। পূজামণ্ডপে একসঙ্গে দাঁড়িয়ে মানুষ শুধু দেবী দুর্গার আরাধনা করেন না; তাঁরা ফিরে পান নিজেদের ভাষা, সংস্কৃতি, সামাজিক সম্পর্ক ও শেকড়ের সঙ্গে সংযোগ।

হিউস্টনের মতো বহুজাতিক ও দ্রুত পরিবর্তনশীল মহানগরে দুর্গাপূজার এই আয়োজন তাই বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। ধর্মীয় উৎসবের পাশাপাশি বাংলা ভাষা, সংগীত, নৃত্য, পোশাক, খাবার ও পারিবারিক বন্ধনেরও প্রকাশ ঘটে এখানে। এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এসব আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

দুর্গাপূজা বাঙালির কাছে তাই শুধু দেবীর আরাধনা নয়-এটি স্মৃতি, আবেগ, মিলন এবং শেকড়ের কাছে ফিরে যাওয়ার উৎসব। হিউস্টনের বিভিন্ন পূজামণ্ডপে যখন ঢাকের শব্দ উঠবে, ধূপের গন্ধে ভরে উঠবে প্রাঙ্গণ, তখন আমেরিকার মাটিতেও যেন কয়েক দিনের জন্য ফিরে আসবে বাংলার শরৎ।

দেশ থেকে দূরে, কিন্তু সংস্কৃতি থেকে নয়- হিউস্টনের বাঙালিরা এবারও দুর্গোৎসবের মধ্য দিয়ে খুঁজে নেবেন নিজেদের শেকড়, স্মৃতি ও আপনজনের উষ্ণতা।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সুরাঙ্গন নিউজ - আমাদের কথা

২০১৭ সাল থেকে সুরাঙ্গন নিউজ বৃহত্তর হিউস্টন এলাকার বাংলা ভাষাভাষী মানুষের সংবাদ, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও কমিউনিটির খবর তুলে ধরছে।

প্রবাসে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির চর্চা, নতুন প্রজন্মের সঙ্গে আমাদের ঐতিহ্যের সংযোগ এবং বাঙালি কমিউনিটির সাফল্য ও কর্মকাণ্ড তুলে ধরাই আমাদের মূল লক্ষ্য।

সুরাঙ্গন নিউজ শুধু একটি সংবাদপত্র নয় – এটি প্রবাসী বাঙালির কণ্ঠস্বর ও আমাদের সংস্কৃতির একটি সেতুবন্ধন। 

Subscribe:
Surangan News

সম্পাদক

ড. প্রদীপ ঘোষ

প্রকাশক: সুরাঙ্গন ফাউন্ডেশন–হিউস্টন

সম্পাদকীয় পরিষদ:

খালেদ জুলফিকার খান, ড. স্বপন দাশগুপ্ত, জুলফিকার কার্নি, মোস্তফা আর রহমান, শেখ আহাদ, ড. নাদিম আশরাফ

স্বাস্থ্য ও বিজ্ঞান বিভাগ: পৃথা ঘোষ

যোগাযোগ

Head Office: 17714 Strolling Stream Ln, Richmond

Texas 77407
Phone: 832-274-6823
Email: info@surangannews.com
Website: www.surangannews.com

Grow your Business with Surangan News 

Each issue is distributed in 5,000 print copies and reaches an additional 10,000 email subscribers

© 2026 Surangan News – Houston | Developed By Modern Web Solution