অবসর ভেঙে ৬ অক্টোবর দেশের মাটিতে বেনিনের বিপক্ষে মাঠে নামবেন আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি
সুরাঙ্গন নিউজ ডেস্ক: বিদায়ের ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু ফুটবলের সবচেয়ে আবেগঘন গল্পগুলো বোধহয় এত সহজে শেষ হয় না। আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর ঘোষণার মাত্র দু’সপ্তাহের মধ্যেই আবারও আর্জেন্টিনার নীল-সাদা জার্সি গায়ে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন লিয়োনেল মেসি। তবে এবার প্রত্যাবর্তন কোনো নতুন অধ্যায়ের শুরু নয় বরং একটি মহাকাব্যিক অধ্যায়ের শেষ পৃষ্ঠা। আগামী ৬ অক্টোবর দেশের মাটিতে বেনিনের বিপক্ষে প্রদর্শনী ম্যাচটিই হতে যাচ্ছে মেসির আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষ ম্যাচ।
এক যুগেরও বেশি সময় ধরে আর্জেন্টিনার ফুটবলের সঙ্গে মেসির নাম যেন অবিচ্ছেদ্য। অসংখ্য জয়, হতাশা, কান্না, সমালোচনা ও শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ জয়ের ঐতিহাসিক সাফল্য; সবকিছুর মধ্য দিয়ে তিনি হয়ে উঠেছেন আর্জেন্টিনার ফুটবলের অন্যতম প্রতীক। সেই কিংবদন্তিকে এবার নিজ দেশের দর্শকদের সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানানোর আয়োজন করছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন।

৬ অক্টোবর বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচের দলে মেসিকে রেখেছেন কোচ লিয়োনেল স্কালোনি। এরপর আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনও নিশ্চিত করেছে, এই ম্যাচকে মেসির বিদায়ী ম্যাচ হিসেবে বিশেষভাবে আয়োজন করা হবে। অর্থাৎ জাতীয় দলের হয়ে মেসির শেষ উপস্থিতি আর কোনো প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে নয়, বরং নিজের দেশের দর্শকদের সামনে এক আবেগঘন বিদায়ী সন্ধ্যায়।
মেসির বিদায়কে স্মরণীয় করে তুলতে থাকছে আরও একটি বিশেষ আয়োজন। ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে তৃতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করা দলের সদস্যদের সবাইকে ওই ম্যাচে আমন্ত্রণ জানানো হবে। তাঁদের পরিবারের সদস্যদেরও উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। যে দলটির নেতৃত্বে মেসি বহু বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে বিশ্বকাপ ট্রফি দেশে ফিরিয়েছিলেন, সেই সতীর্থদের উপস্থিতিতেই হবে তাঁর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়ের উদ্যাপন।
আর্জেন্টিনার দেশের মাটিতে এই সময় মোট তিনটি প্রদর্শনী ম্যাচ রয়েছে। ৩০ সেপ্টেম্বর কর্ডোবায় বলিভিয়ার বিপক্ষে খেলবে আর্জেন্টিনা। এরপর ৩ অক্টোবর রিভার প্লেটের স্টেডিয়ামে বুরকিনা ফাসোর মুখোমুখি হবে তারা। আর ৬ অক্টোবর বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়েই শেষ হবে এই সিরিজ, এবং একই সঙ্গে শেষ হবে আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির দীর্ঘ পথচলা।

বিশ্বকাপের ফাইনালে শেষবার মেসিকে নীল-সাদা জার্সিতে দেখেছিলেন সমর্থকেরা। এবার সেই জার্সিতেই তাঁকে আরও একবার দেখতে পাবেন তাঁরা শেষবারের মতো। স্টেডিয়ামে হয়তো থাকবে হাজারো পতাকা, গর্জে উঠবে লাখো কণ্ঠ, আর মাঠে দাঁড়িয়ে থাকবেন সেই মানুষটি, যিনি আর্জেন্টিনার ফুটবলপ্রেমীদের বহু বছরের স্বপ্ন পূরণ করেছেন।
মেসির বিদায় তাই শুধু একটি ম্যাচের সমাপ্তি নয়; এটি একটি প্রজন্মের ফুটবল-স্মৃতির বিদায়। ৬ অক্টোবরের সেই রাত হয়ে উঠতে পারে আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্তগুলোর একটি যেখানে শেষবারের মতো নীল-সাদা জার্সিতে দেখা যাবে লিয়োনেল মেসিকে।


