সুরাঙ্গন নিউজ ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা, কর্মসংস্থান, পারিবারিক পুনর্মিলন এবং স্থায়ীভাবে বসবাসের উদ্দেশ্যে ভারত ও বাংলাদেশ থেকে আসা নাগরিকদের জন্য ভিসা ও অভিবাসনসংক্রান্ত নিয়ম, সাক্ষাৎকারের অপেক্ষা, নথিপত্র যাচাই এবং প্রবেশের শর্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। তবে সব আবেদনকারীর জন্য পরিস্থিতি এক নয়। ভিসার ধরন, নাগরিকত্ব, বর্তমান বসবাসের দেশ, আবেদনের পর্যায় এবং ব্যক্তিগত অভিবাসন-ইতিহাসের ওপর প্রক্রিয়া ও সিদ্ধান্ত নির্ভর করে।
বিশেষ করে F-1 শিক্ষার্থী ভিসা, J-1 এক্সচেঞ্জ ভিজিটর ভিসা, H-1B কর্মভিসা, পর্যটক ভিসা এবং গ্রিন কার্ডের আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে পৃথক নিয়ম প্রযোজ্য। নতুন কোনো নীতি ঘোষিত হলে সেটি কবে থেকে কার্যকর, কোন শ্রেণির আবেদনকারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য এবং আগে থেকে ভিসা পাওয়া ব্যক্তিদের ওপর তার প্রভাব কী এসব বিষয় যাচাই করা জরুরি।

সাম্প্রতিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন
১. বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য পর্যটক ও ব্যবসায়িক ভিসায় জামানত
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, ২১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের জন্য নির্দিষ্ট শর্তে B-1/B-2 ব্যবসায়িক ও পর্যটক ভিসার ক্ষেত্রে আর্থিক জামানতের বিধান চালু হয়েছে। ভিসার জন্য যোগ্য বিবেচিত হলে কনস্যুলার কর্মকর্তা আবেদনকারীর ক্ষেত্রে ৫,০০০, ১০,০০০ অথবা ১৫,০০০ ডলারের জামানত নির্ধারণ করতে পারেন।
এই জামানত সব ভিসা আবেদনকারীর জন্য একই পরিমাণে প্রযোজ্য নয়। কর্মকর্তা নির্দেশ দেওয়ার পরই নির্ধারিত সরকারি ব্যবস্থায় অর্থ জমা দিতে হয়। জামানত প্রদান করলেই ভিসা নিশ্চিত হয় না; শর্ত পূরণ হলে অর্থ ফেরত দেওয়ার বিধান রয়েছে।
২. অভিবাসী ভিসা নিয়ে বাংলাদেশের আবেদনকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আপডেট
২০২৬ সালের জানুয়ারিতে কয়েকটি দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা প্রদান সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ২৮ আগস্টের হালনাগাদ অনুযায়ী, আদালতের আদেশের পর ২১ আগস্ট ২০২৬ থেকে ওই স্থগিতাদেশ আর কার্যকর নেই। বাংলাদেশ ওই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ছিল।
এটি অভিবাসী ভিসা যেমন স্থায়ীভাবে বসবাসের উদ্দেশ্যে আবেদন সংক্রান্ত ব্যবস্থা। পর্যটক ভিসা বা শিক্ষার্থী ভিসার ওপর একই স্থগিতাদেশ প্রযোজ্য ছিল না। তবে অন্যান্য যোগ্যতা যাচাই ও অভিবাসনসংক্রান্ত নিয়ম বহাল রয়েছে।
৩. ভারতীয় আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে সাক্ষাৎকারের দীর্ঘ অপেক্ষা
ভারতে যুক্তরাষ্ট্রের পর্যটক ভিসার সাক্ষাৎকার পেতে দীর্ঘ অপেক্ষার বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন সরকারি সংস্থা Government Accountability Office (GAO)-এর তথ্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, ২০২৫ অর্থবছরে ভারতীয় আবেদনকারীদের পর্যটক ভিসার সাক্ষাৎকারের জন্য ওজনযুক্ত গড় অপেক্ষার সময় ছিল ৩৪৬ দিন। এটি সাক্ষাৎকারের অপেক্ষার হিসাব; ভিসা অনুমোদনের সময় নয়। প্রত্যেক আবেদনকারীর অপেক্ষার সময়ও এক নয়।
অন্যদিকে, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর নিয়মিতভাবে নতুন সাক্ষাৎকারের সময় প্রকাশ করে এবং খালি স্লট তৈরি হলে আগের তারিখে সাক্ষাৎকার নেওয়ার সুযোগ থাকতে পারে। তাই আবেদনকারীদের সংশ্লিষ্ট দূতাবাস বা কনস্যুলেটের হালনাগাদ সময়সূচি পরীক্ষা করা উচিত।
৪. F-1 ও J-1 ভিসায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যাচাই
শিক্ষার্থী ও এক্সচেঞ্জ ভিজিটরদের জন্যও ভিসা যাচাই প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর ঘোষণায় বলা হয়েছে, F-1 শিক্ষার্থী এবং J-1 এক্সচেঞ্জ ভিজিটরসহ একাধিক ভিসা শ্রেণিতে আবেদনকারীদের অনলাইন উপস্থিতি যাচাইয়ের ব্যবস্থা আগে থেকেই প্রযোজ্য। নতুন ঘোষণায় ১ অক্টোবর থেকে I, TN ও TD শ্রেণির আবেদনকারীদেরও এই যাচাইয়ের আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের ভর্তি-সংক্রান্ত নথি, অর্থায়নের প্রমাণ, শিক্ষার উদ্দেশ্য এবং ভিসার শর্ত মেনে চলার পরিকল্পনা সম্পর্কে সঠিক তথ্য প্রস্তুত রাখা জরুরি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাচাইয়ের বিধানকে স্বয়ংক্রিয় ভিসা প্রত্যাখ্যান হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।

৫. H-1B কর্মভিসা ও গ্রিন কার্ডের আবেদন
ভারতীয় ও বাংলাদেশি পেশাজীবীদের জন্য H-1B কর্মভিসা এবং কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ডের প্রক্রিয়া আলাদা। H-1B-এর ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তার আবেদন, সংশ্লিষ্ট যোগ্যতা এবং প্রযোজ্য অভিবাসন বিধি গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে, গ্রিন কার্ডের ক্ষেত্রে ভিসার বার্ষিক সংখ্যা, অগ্রাধিকার শ্রেণি এবং আবেদনকারীর অগ্রাধিকারের তারিখ অনুযায়ী অপেক্ষা নির্ধারিত হতে পারে।
ভারতীয় আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে ২০২৬ অর্থবছরে EB-2 এবং EB-5-এর নির্দিষ্ট শ্রেণিতে বার্ষিক ভিসা-সীমা পূর্ণ হওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে নতুন অর্থবছর শুরু হওয়ায় সংশ্লিষ্ট শ্রেণির নতুন ভিসা-সীমা ও ভিসা বুলেটিন পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
আবেদনকারীদের করণীয়
- পর্যটক ও ব্যবসায়িক ভিসা: জামানতের বিধান, সাক্ষাৎকারের সময় এবং প্রয়োজনীয় নথি যাচাই করুন।
- শিক্ষার্থী ও এক্সচেঞ্জ ভিজিটর: বিশ্ববিদ্যালয়ের নথি, অর্থায়ন এবং ভিসার শর্ত সম্পর্কে হালনাগাদ থাকুন।
- কর্মভিসা ও গ্রিন কার্ড: নিয়োগকর্তার আবেদন, অগ্রাধিকারের তারিখ এবং সরকারি ভিসা বুলেটিন পরীক্ষা করুন।
- যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত ব্যক্তিরা: ভিসার মেয়াদ ও যুক্তরাষ্ট্রে অনুমোদিত অবস্থানের সময়সীমাকে আলাদা বিষয় হিসেবে বিবেচনা করুন। ভিসা স্ট্যাম্পের মেয়াদ শেষ হওয়া মানেই সব ক্ষেত্রে অনুমোদিত অবস্থানের মেয়াদ শেষ হওয়া নয়।
সরকারি তথ্যের জন্য দেখুন:
- যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর—ভিসা সংক্রান্ত সর্বশেষ ঘোষণা
- ভিসা সাক্ষাৎকারের অপেক্ষার সময়
- যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা (USCIS)
নোট: প্রতিবেদনটি অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত পাওয়া সরকারি ঘোষণা ও প্রকাশিত সংবাদভিত্তিক। ভিসার নিয়ম পরিবর্তন হতে পারে; আবেদন বা ভ্রমণের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি নির্দেশনা যাচাই করুন।


