সুরাঙ্গন নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক: গত রবিবার, ২ আগস্ট, সুরাঙ্গন মিউজিক স্কুলের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হলো মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ‘বর্ষা মঙ্গল’। বর্ষার সৌন্দর্য, প্রেম, অনুভূতি ও নস্টালজিয়াকে উপজীব্য করে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে পরিবেশিত হয় সুমধুর গান, নৃত্য ও কবিতা আবৃত্তি। সুর, ছন্দ ও কাব্যের অপূর্ব সমন্বয়ে দর্শক-শ্রোতারা উপভোগ করেন এক অনন্য সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা।

অনুষ্ঠানটি সাজানো হয়েছিল বাংলার পঞ্চকবি: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, দ্বিজেন্দ্রলাল রায়, অতুলপ্রসাদ সেন এবং রজনীকান্ত সেনের বর্ষাভিত্তিক নির্বাচিত গান ও কবিতাকে কেন্দ্র করে। একের পর এক সংগীত, আবৃত্তি ও নৃত্য পরিবেশনায় মঞ্চে জীবন্ত হয়ে ওঠে বর্ষার রূপ, প্রেম, বিরহ, আনন্দ এবং প্রকৃতির অনির্বচনীয় সৌন্দর্য। প্রতিটি পরিবেশনায় ফুটে ওঠে বাংলার চিরায়ত সংস্কৃতির আবেগ, নান্দনিকতা ও ঐতিহ্যের অনুপম প্রকাশ।

অনুষ্ঠানের শুরুতে উপস্থিত সকলকে স্বাগত জানান সুরাঙ্গন মিউজিক স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা ও সংগীতশিক্ষিকা শ্রীমতী রূপা ঘোষ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মন্দাকিনী চ্যাটার্জী। তবলায় সঙ্গত করেন ড. রাজা বাঙ্গা ও জয়ন্ত দেবনাথ এবং মন্দিরায় সঙ্গত করেন মিতা সোম ও ঝলক দাস। অনুষ্ঠানের স্ক্রিপ্ট রচনা করেন অনির্বাণ চক্রবর্তী। নৃত্য পরিচালনায় ছিলেন কোয়েল সেন বক্সী, রিনি মুখার্জি এবং মন্দাকিনী চ্যাটার্জী।

অনুষ্ঠানে সঙ্গীত ও আবৃত্তি পরিবেশন করেন কাজল রায়, অমিত সরকার, ভাওয়াল, বিশ্বরুচি মিত্র, বীথি আহাদ, ঝর্ণা সরকার, রুনা নাসরিন, সৃজিতা চক্রবর্তী, চৈতালী অধিকারী, খাইরুন নাহার, অনির্বাণ চক্রবর্তী, অনিরুদ্ধ দাশগুপ্ত, দীনেশ অধিকারী, অঞ্জলি দাশগুপ্ত, সুদেষ্ণা লাহিড়ী, মন্দাকিনী চ্যাটার্জী, বৈদূর্য চক্রবর্তী, শ্যামলী মিত্র এবং রূপা ঘোষ।

শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দর্শক-শ্রোতায় পরিপূর্ণ ছিল অনুষ্ঠানস্থল। প্রতিটি পরিবেশনার পর করতালিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো হল। বর্ষার স্নিগ্ধ আবহ, হৃদয়স্পর্শী সংগীত, মনোমুগ্ধকর নৃত্য এবং আবেগঘন কবিতা আবৃত্তির সমন্বয়ে ‘বর্ষা মঙ্গল’ পরিণত হয় এক স্মরণীয় সাংস্কৃতিক আয়োজনে।
বাংলা সংস্কৃতির চর্চা, শিল্পকলার বিকাশ এবং নতুন প্রজন্মের কাছে আমাদের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য পৌঁছে দেওয়ার যে নিরলস প্রচেষ্টা সুরাঙ্গন মিউজিক স্কুল দীর্ঘদিন ধরে চালিয়ে আসছে, ‘বর্ষা মঙ্গল’ তারই আরেকটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। উপচে পড়া দর্শকসমাগম ও প্রাণবন্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে, প্রবাসের মাটিতেও বাংলা সংস্কৃতির শিকড় আজও সমান দৃঢ়, জীবন্ত ও প্রাণবন্ত।

অনুষ্ঠানের শেষে সুরাঙ্গনের শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শুভানুধ্যায়ীরা প্রতিষ্ঠাতা ও সংগীতশিক্ষিকা রূপা ঘোষের ৫০তম জন্মদিন আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপন করেন। কেক কাটা, শুভেচ্ছা বিনিময় এবং ভালোবাসায় ভরা সেই আয়োজনে আবেগঘন মুহূর্তের সৃষ্টি হয়। জন্মদিন উপলক্ষে সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে রূপা ঘোষ উপস্থিত সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।


