৯/১১-এর ২৫ বছর পূর্তিতে স্মরণ ও সম্প্রীতির বার্তা
সুরাঙ্গন নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক: ৯/১১-এর ২৫ বছর পূর্তিতে আমরা স্মরণ করছি সেই ভয়াবহ দিনকে, যখন ধর্মীয় উগ্রতার নামে সংঘটিত সন্ত্রাসী হামলা যুক্তরাষ্ট্রসহ গোটা বিশ্বকে গভীরভাবে নাড়িয়ে দিয়েছিল। একই সঙ্গে স্মরণ করা যায় প্রায় ১৩০ বছর আগে উচ্চারিত স্বামী বিবেকানন্দের সেই ঐতিহাসিক আহ্বান- ধর্মের নামে সাম্প্রদায়িকতা, গোঁড়ামি ও ধর্মান্ধতার অবসানের আহ্বান।
১৮৯৩ সালের ১১ সেপ্টেম্বর শিকাগোতে অনুষ্ঠিত বিশ্ব ধর্ম মহাসভা (World’s Parliament of Religions)-এ এক হিন্দু সন্ন্যাসী হিসেবে বক্তব্য রাখেন স্বামী বিবেকানন্দ। তাঁর ভাষণে তিনি ধর্মীয় সহিষ্ণুতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং মানবিক ঐক্যের কথা তুলে ধরেন। সেই ভাষণের শেষাংশ আজও বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক বলে মনে হয়।

স্বামী বিবেকানন্দের মূল বক্তব্যের ভাবানুবাদ:
“সাম্প্রদায়িকতা, গোঁড়ামি এবং তাদের ভয়াবহ উত্তরসূরি ধর্মান্ধতা দীর্ঘকাল ধরে এই সুন্দর পৃথিবীকে গ্রাস করে রেখেছে। তারা পৃথিবীকে সহিংসতায় পূর্ণ করেছে, বারবার মানুষের রক্তে সিক্ত করেছে, সভ্যতা ধ্বংস করেছে এবং সমগ্র জাতিকে হতাশার অন্ধকারে ঠেলে দিয়েছে। এই ভয়াবহ দানবগুলোর অস্তিত্ব না থাকলে মানবসমাজ আজকের তুলনায় অনেক বেশি উন্নত হতো।
কিন্তু তাদের সময় ফুরিয়ে এসেছে। আমি আন্তরিকভাবে আশা করি, আজ সকালে এই সম্মেলনের সম্মানে যে ঘণ্টা বেজেছে, তা যেন সমস্ত ধর্মান্ধতা, তলোয়ার কিংবা কলমের মাধ্যমে সংঘটিত সব ধরনের নিপীড়ন এবং একই লক্ষ্যের পথে অগ্রসরমান মানুষের মধ্যে বিদ্যমান সব বিদ্বেষপূর্ণ মনোভাবের অবসানের ঘণ্টা হয়ে ওঠে।”

শিকাগোর সেই মঞ্চে উচ্চারিত এই বক্তব্যের তাৎপর্য আজও গভীর। কারণ ধর্ম মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির জন্য নয়; বরং মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা ও শান্তির পথ দেখানোর জন্য। ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে ধর্মের নামে সংঘাত ও সহিংসতা মানবসভ্যতাকে ক্ষতবিক্ষত করেছে। তাই ৯/১১-এর মতো ভয়াবহ ঘটনার স্মরণে বিবেকানন্দের সেই মানবতাবাদী আহ্বান নতুন করে মনে করিয়ে দেয়- ঘৃণা ও ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে সবচেয়ে শক্তিশালী উত্তর হলো সহিষ্ণুতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং মানবিক ঐক্য।
একই দিনে- ১১ সেপ্টেম্বর- ১৮৯৩ সালে বিবেকানন্দের শান্তি ও সম্প্রীতির আহ্বান এবং ২০০১ সালে ৯/১১-এর সন্ত্রাসী হামলা ইতিহাসের দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন অধ্যায়। কিন্তু এই দুই ঘটনার ব্যবধান আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের সামনে দাঁড় করায়: ধর্ম ও বিশ্বাস কি মানুষকে বিভক্ত করবে, নাকি মানবতাকে আরও ঐক্যবদ্ধ করবে?
২৫ বছর পর ৯/১১-এর স্মরণে সেই প্রশ্নের উত্তর খোঁজা এখনও জরুরি।


