৯ অক্টোবর ঘোষণা ২০২৬ সালের শান্তি পুরস্কার – সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় মার্ক কার্নি, সুদানের ত্রাণকর্মী ও শিশু অধিকারকর্মীরাও
সুরাঙ্গন নিউজ ডেস্ক: নোবেল শান্তি পুরস্কার ২০২৬-কে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে শুরু হয়েছে জল্পনা। আগামী ৯ অক্টোবর নরওয়ের অসলোতে নরওয়েজীয় নোবেল কমিটি এ বছরের পুরস্কার বিজয়ীর নাম ঘোষণা করবে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনায় রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এবং কয়েকটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও মানবিক সহায়তামূলক সংস্থা। তবে আলোচনায় থাকা কোনো নামই পুরস্কার পাওয়ার নিশ্চয়তা নয়।
ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা এবারের আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। বিভিন্ন সময়ে তিনি আন্তর্জাতিক সংঘাত নিরসনে নিজের ভূমিকার কথা তুলে ধরে এ পুরস্কারের প্রত্যাশা প্রকাশ করেছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাঁকে ঘিরে আলোচনা থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক তাঁর সম্ভাব্য পুরস্কারপ্রাপ্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিশ্লেষকদের মতামত অবশ্য নোবেল কমিটির সিদ্ধান্তের বিকল্প নয়।
আলোচনায় আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন
এবারের সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে বিশেষভাবে নজর কেড়েছে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন (আইএসএস)। অসলোর পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআইও) পরিচালক ক্রিস্টিয়ান বার্গ হার্পভিকেনের প্রকাশিত সম্ভাব্য তালিকায় আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
২৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের মহাকাশ গবেষক ও বিজ্ঞানীরা এই স্টেশনে যৌথভাবে কাজ করে আসছেন। পৃথিবীতে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও সংঘাত চললেও মহাকাশে এই সহযোগিতা আন্তর্জাতিক সমন্বয় এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পিআরআইওর মতে, মহাকাশ স্টেশনের অংশীদারত্বকে স্বীকৃতি দেওয়া হলে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার গুরুত্বও তুলে ধরা সম্ভব হবে।
সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় কারা?
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিও আলোচনায় রয়েছেন। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি এবং বৃহৎ শক্তিগুলোর বাইরে অন্যান্য দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা নিয়ে তাঁর বক্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। তবে তাঁর নাম আলোচনায় থাকা মানেই নোবেল কমিটির চূড়ান্ত তালিকায় তাঁর নাম রয়েছে- এমন নয়।
এ ছাড়া সুদানের ‘ইমার্জেন্সি রেসপন্স রুমস’, ইউক্রেনের শিশুদের অধিকার রক্ষায় কাজ করা সংস্থা ‘সেভ দ্য চিলড্রেন’ এবং শিশু অধিকারকর্মী মাইকোলা কুলেবা সম্ভাব্য প্রার্থীদের আলোচনায় রয়েছেন। আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) ও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)-এর নামও পিআরআইওর তালিকায় রয়েছে। এসব নামের পেছনে মানবিক সহায়তা, শিশু সুরক্ষা, আন্তর্জাতিক আইন এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতার মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।
মনোনয়ন নিয়ে গোপনীয়তা
নোবেল শান্তি পুরস্কারের মনোনয়নসংক্রান্ত তথ্য সাধারণত ৫০ বছর পর্যন্ত গোপন রাখা হয়। নোবেল ইনস্টিটিউটও নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির মনোনয়ন আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত বা অস্বীকার করে না। ফলে সংবাদমাধ্যমের আলোচনা, বিশেষজ্ঞদের সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকা কিংবা অনলাইন পূর্বাভাসের ভিত্তিতে কাউকে নিশ্চিত বিজয়ী বলা যায় না।
আগামী ৯ অক্টোবর নরওয়ের স্থানীয় সময় সকাল ১১টায় পুরস্কার ঘোষণার মধ্য দিয়ে সব জল্পনার অবসান ঘটবে। ট্রাম্প, কার্নি, আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন কিংবা মানবিক সহায়তায় নিয়োজিত কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান- কার হাতে উঠবে এ বছরের নোবেল শান্তি পুরস্কার, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার জন্য।


