সুরাঙ্গন নিউজ ডেস্ক: নেপালের উত্তরাঞ্চলে আকস্মিক ও ভয়াবহ বন্যায় অন্তত ৯৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন শত শত মানুষ। বুধবার সকালে নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী রাসুয়া জেলার ভোতে কোশি নদী ও আশপাশের এলাকায় হঠাৎ পানির প্রবল স্রোত নেমে এসে ঘরবাড়ি, সড়ক, সেতু ও বিভিন্ন অবকাঠামো ভাসিয়ে নেয়।
বন্যায় রাসুয়া, নুওয়াকোট, ধাদিংসহ একাধিক জেলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নেপালের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৯টি মোটরযোগ্য সেতু ও প্রায় ৪০ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিদ্যুৎ ও যোগাযোগব্যবস্থাও ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ তৈরি হয়েছে নিখোঁজ ব্যক্তিদের নিয়ে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের হিসাবে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য, জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কর্মী এবং দেশি-বিদেশি পর্যটকসহ বহু মানুষ এখনও নিখোঁজ। নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, বিদেশি পর্যটকদের একটি বড় সংখ্যারও সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না।
হঠাৎ বন্যার সম্ভাব্য কারণ
প্রাথমিক বিশ্লেষণে ধারণা করা হচ্ছে, হিমবাহ এলাকায় বরফ ও পাথরের ধস নদীর প্রবাহে আকস্মিক বাধা সৃষ্টি করে। পরে সেই বাধা ভেঙে বিপুল পরিমাণ পানি ও পলি নিচের দিকে নেমে আসে। কয়েকটি প্রতিবেদনে সীমান্ত এলাকায় সংঘটিত ভূমিকম্পের সম্ভাব্য ভূমিকার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে; তবে দুর্যোগের সুনির্দিষ্ট কারণ নিয়ে তদন্ত চলছে।
উদ্ধার অভিযান জোরদার
দুর্গম পাহাড়ি এলাকা ও ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের কারণে উদ্ধারকাজ কঠিন হয়ে পড়েছে। নেপাল সেনাবাহিনী হেলিকপ্টার ও উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করেছে। দুর্গত এলাকায় আটকে পড়াদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া এবং নিখোঁজদের সন্ধানে অভিযান চলছে।
নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ দুর্যোগ মোকাবিলায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন এবং উদ্ধার, চিকিৎসা, খাদ্য ও আশ্রয়ের দায়িত্ব সরকার নেবে বলে জানিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হিমালয় অঞ্চলে হিমবাহ ও বরফধসজনিত আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি বাড়ছে। এ ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলায় দ্রুত সতর্কবার্তা, উন্নত নজরদারি ব্যবস্থা এবং নদীতীরবর্তী এলাকায় আগাম সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা জরুরি।


