যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের পিয়ারল্যান্ড শহরে বাঙালি সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘উৎসব এবং আড্ডা’-র উদ্যোগে যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হলো বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মজয়ন্তী।

গত শনিবার স্থানীয় সিলভারক্রেস্ট এলিমেন্টারি স্কুল অডিটোরিয়াম, পিয়ারল্যান্ডে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রবাসী বাঙালিদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে মিলনমেলায় পরিণত হয় পুরো আয়োজন। অনুষ্ঠানের শুরুতে রবীন্দ্রনাথের প্রতিকৃতিতে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। ম্যানভেল, টেক্সাসের মেয়র ড্যান ডেভিস রবীন্দ্রজয়ন্তী অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন। পরে সংগীত, আবৃত্তি, নৃত্য ও নাট্যাংশের মধ্য দিয়ে কবিগুরুর সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন স্থানীয় শিল্পীরা।

এই রবীন্দ্রজয়ন্তীর বিশেষ আকর্ষণ ছিল কমলপ্রিয়া রায় ও রূপা ঘোষ পরিচালিত পরিবেশনা ‘রবীন্দ্রমননে আত্মউদ্বোধন’, যা রবীন্দ্রনাথের আত্মউদ্বোধনের দর্শনের ওপর আলোকপাত করে। এ পরিবেশনায় দলীয় গানের পাশাপাশি একক ও দ্বৈত সংগীতও পরিবেশিত হয়, যা দর্শকদের কাছ থেকে ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করে। কমলপ্রিয়া রায়, রূপা ঘোষ, অনির্বাণ চক্রবর্তী, সুকন্যা দে অধিকারী, অলোক ভৌমিক ও অলোক রায় এতে অংশ নেন। তবলায় সঙ্গত করেন জয় দেবনাথ।
অনুষ্ঠানে শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। তারা রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশন ও কবিতা আবৃত্তির মাধ্যমে দর্শকদের মুগ্ধ করে। আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন প্রজন্মের মধ্যে বাংলা সংস্কৃতি ও রবীন্দ্রচর্চা ছড়িয়ে দিতেই এ ধরনের আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, প্রবাসে থেকেও বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে নতুন প্রজন্মকে যুক্ত রাখাই তাদের মূল লক্ষ্য। অনুষ্ঠানের শেষপর্বে সম্মিলিত কণ্ঠে রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশনের পাশাপাশি ছিল নৈশভোজের আয়োজন। পুরো অনুষ্ঠানটির সমন্বয় করেন বাসুদেব চক্রবর্তী।
আয়োজনে অংশ নেওয়া প্রবাসীরা বলেন, এ ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান প্রবাসজীবনের ব্যস্ততার মাঝেও বাংলা সংস্কৃতির শিকড়কে স্মরণ করিয়ে দেয় এবং কমিউনিটির মধ্যে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।


