সুরাঙ্গন নিউজ ডেস্ক: রাইস ইউনিভার্সিটি ঘোষণা করেছে, ২০২৭ সালের শরৎ সেমিস্টার থেকে যেসব শিক্ষার্থীর পরিবারের বার্ষিক আয় ২ লাখ ডলারের কম, তারা ‘রাইস ইনভেস্টমেন্ট’ আর্থিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় টিউশন ফি মওকুফের সুবিধা পাবেন। এর আগে এই সুবিধার আয়ের সীমা ছিল ১ লাখ ৪০ হাজার ডলার।
নতুন নীতির আওতায় ১ লাখ থেকে ২ লাখ ডলার পর্যন্ত বার্ষিক আয় রয়েছে এমন পরিবারের শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি সম্পূর্ণ মওকুফ করা হবে। আর যেসব পরিবারের বার্ষিক আয় ১ লাখ ডলারের কম, তাদের জন্য টিউশন ফি ছাড়াও বাধ্যতামূলক ফি এবং থাকা-খাওয়ার (রুম অ্যান্ড বোর্ড) খরচও বহন করবে বিশ্ববিদ্যালয়।
৩ আগস্ট ঘোষিত এই সম্প্রসারিত কর্মসূচি সম্পর্কে রাইস ইউনিভার্সিটির প্রেসিডেন্ট রেজি ডেসরোচেস বলেন, এটি বিশ্ববিদ্যালয় এবং উচ্চশিক্ষার ভবিষ্যতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। তাঁর মতে, প্রতিটি সম্প্রদায় ও আর্থ-সামাজিক পটভূমিতেই প্রতিভাবান মানুষ রয়েছে। প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও শুভানুধ্যায়ীদের উদার সহযোগিতার কারণে এখন আরও বেশি শিক্ষার্থী রাইস ইউনিভার্সিটিতে পড়ার মাধ্যমে নিজেদের জীবন বদলে নেওয়ার সুযোগ পাবে।
আগের ‘রাইস ইনভেস্টমেন্ট’ কর্মসূচিতে ৭৫ হাজার ডলার বা তার কম বার্ষিক আয়সম্পন্ন পরিবারের শিক্ষার্থীদের টিউশন, বাধ্যতামূলক ফি এবং থাকা-খাওয়ার খরচ বহন করা হতো। ৭৫ হাজার থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার ডলার আয়সম্পন্ন পরিবারের শিক্ষার্থীদের শুধু টিউশন ফি মওকুফ করা হতো। নতুন নীতিতে এই সুবিধা আরও বিস্তৃত করা হয়েছে।
রাইস ইউনিভার্সিটির এনরোলমেন্টবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং অ্যাডমিশনস ও ফিন্যান্সিয়াল এইডের ডিন ইভন রোমেরো বলেন, অনেক মধ্যবিত্ত ও উচ্চ-মধ্যবিত্ত পরিবারের ধারণা থাকে যে তারা উল্লেখযোগ্য আর্থিক সহায়তার জন্য যোগ্য নন। সম্প্রসারিত কর্মসূচির মাধ্যমে সেই ধারণা পরিবর্তন করা এবং আর্থিক সহায়তার যোগ্যতার বিষয়টি আরও সহজভাবে তুলে ধরা হচ্ছে। পরিবারের আর্থিক সামর্থ্য যেন কোনো শিক্ষার্থীকে রাইসে পড়ার কথা বিবেচনা করা থেকে নিরুৎসাহিত না করে এটাই বিশ্ববিদ্যালয়ের লক্ষ্য।
২০১৯ সালে ‘রাইস ইনভেস্টমেন্ট’ কর্মসূচি চালু হওয়ার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়টি এ পর্যন্ত ১ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি আর্থিক সহায়তা দিয়েছে।
রাইস ইউনিভার্সিটির ‘মোমেন্টাস’ কৌশলগত পরিকল্পনার অংশ হিসেবে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগও অব্যাহত রয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৮ সালের মধ্যে স্নাতক পর্যায়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫ হাজার ২০০-তে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে।


