গত বছরের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে Houston Durga Bari Society আবারও মন্দির প্রাঙ্গণে বিশেষ ‘দুর্গা সপ্তশতী যজ্ঞ’-এর আয়োজন করেছে। দিনব্যাপী এই ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বিপুল সংখ্যক ভক্ত উপস্থিত থেকে যজ্ঞে অংশগ্রহণ করেন। হিউস্টন দুর্গাবাড়ির প্রধান পুরোহিত শ্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য এবং অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবকদের সহযোগিতায় অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়।
দুর্গা সপ্তশতী যজ্ঞ একটি শক্তিশালী বৈদিক অগ্নি-অনুষ্ঠান, যা খ্রিস্টীয় চতুর্থ বা পঞ্চম শতাব্দীতে রচিত Markandeya Purana থেকে উদ্ভূত। এই যজ্ঞে দেবী দুর্গার বীরত্ব ও মহিমা বর্ণনাকারী ৭০০টি শ্লোক বা ‘সপ্তশতী’ পাঠ করা হয়। সুরক্ষা, সমৃদ্ধি এবং নেতিবাচক শক্তির বিনাশ কামনায় এই যজ্ঞের আয়োজন করা হয়ে থাকে।
দুষ্ট শক্তিকে পরাভূত করা, অহংবোধ প্রশমিত করা এবং আধ্যাত্মিক ও পার্থিব মনস্কামনা পূরণের লক্ষ্যে এই যজ্ঞে সম্পূর্ণ ‘দুর্গা সপ্তশতী’ গ্রন্থ পাঠ করা হয়।
গ্রন্থটি তিনটি ভাগ বা চরিত্রে বিভক্ত, যা মানুষের অন্তর্জাগতিক বিবর্তনের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত তমঃ (অজ্ঞানতা), রজঃ (কামনা-বাসনা) এবং সত্ত্বঃ (জ্ঞান বা প্রজ্ঞা)। এই ত্রিগুণের পরিশুদ্ধির প্রক্রিয়াকে বিভিন্ন অধ্যায়ে তুলে ধরা হয়েছে। যজ্ঞে ‘দেবী কবচম’, ‘অর্গলা স্তোত্রম’ এবং ‘দেবী কীলকম’-এর পাঠও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

সাধারণত পুরোহিতদের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত এই যজ্ঞে পবিত্র অগ্নিতে ঘি, সমিধ (যজ্ঞকাষ্ঠ) এবং অন্যান্য পবিত্র উপকরণ আহুতি দেওয়া হয়। আহুতির সময় বিশেষ ‘বীজ মন্ত্র’ জপ করা হয়। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, সপ্তশতী যজ্ঞ জীবনের নানা বাধা-বিপত্তি দূর করতে এবং অশুভ শক্তির প্রভাব থেকে সুরক্ষা দিতে সহায়ক। এর মাধ্যমে সুখ, শান্তি, সাফল্য ও সমৃদ্ধি লাভের পাশাপাশি আধ্যাত্মিক বিকাশ এবং মানসিক শক্তি বৃদ্ধি পায় বলে ভক্তদের বিশ্বাস।
এছাড়াও, ‘সম্পুট পাঠ’-এর মাধ্যমে এই যজ্ঞ সম্পন্ন করা হলে তা জীবনের জটিল ও গুরুতর সমস্যার মোকাবিলায় বিশেষ সহায়ক হতে পারে বলে মনে করা হয়। সম্পুট পাঠ অত্যন্ত একাগ্রতা ও বিশেষ নিয়মে পরিচালিত একটি পাঠপ্রক্রিয়া।
অনুষ্ঠান শেষে Houston Durga Bari Society-এর পক্ষ থেকে সকল ভক্তের জন্য বিশেষ নিরামিষ ভোজের আয়োজন করা হয়। আয়োজকরা পুরোহিত ও স্বেচ্ছাসেবকদের আন্তরিক নিষ্ঠার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী সকল ভক্তকে ধন্যবাদ জানান।


