হিউস্টন দুর্গাবাড়ি সোসাইটির ২৫তম ‘দীপিকা দাশগুপ্ত স্মৃতি নাট্যোৎসব’ শিল্প, সংস্কৃতি ও সম্প্রীতির এক স্মরণীয় এবং সফল উদযাপনে পরিণত হয়েছিল। একসময় যে উদ্যোগটি একটি ক্ষুদ্র সামাজিক প্রচেষ্টা হিসেবে শুরু হয়েছিল, আজ তা এক স্নেহময় ঐতিহ্যে রূপ নিয়েছে—যা প্রতিভা, গল্পবলা এবং নাট্যকলার সম্মিলিত আনন্দকে একসূত্রে গেঁথে রাখে। এবারের পরিবেশনাও ছিল তেমনি প্রাণবন্ত, হৃদয়স্পর্শী ও স্মরণীয়।

মিসেস দীপিকা দাশগুপ্ত ছিলেন একজন নিবেদিতপ্রাণ নাট্যকর্মী। মঞ্চনাটকের প্রতি ছিল তাঁর গভীর ভালোবাসা—যেখানে নাটক, সেখানেই দীপিকা দাশগুপ্ত। তিনি সবাইকে অভিনয়ে অংশগ্রহণ করতে উৎসাহিত করতেন। তাঁর স্বামী শ্রী রামলাল দাশগুপ্তও ছিলেন একজন নাট্যপ্রেমী ব্যক্তি। হিউস্টনের নাট্যজগতে দীপিকা ও রামলাল দাশগুপ্তের অবদান আজও অবিস্মরণীয়। তাঁদের অমর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে হিউস্টন দুর্গাবাড়ি সোসাইটি প্রতিবছর এই নাট্যোৎসবের আয়োজন করে থাকে।

আমরা জানি, একটি নাটক সৃষ্টির পেছনে থাকে নানা তত্ত্ব, নাট্যদৃষ্টিভঙ্গি ও শৈল্পিক প্রক্রিয়া। এর কোনো কোনোটি রাজনৈতিক বা আধ্যাত্মিক চিন্তাধারার সঙ্গে সম্পর্কিত, আবার কোনো কোনো প্রক্রিয়ার ভিত্তি সম্পূর্ণরূপে শিল্পকেন্দ্রিক। কিছু প্রক্রিয়া আবর্তিত হয় একটি গল্পকে ঘিরে, আবার কিছু তত্ত্ব বা দৃষ্টিভঙ্গি নাট্যকলাকে সমাজ পরিবর্তনের শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে তুলে ধরে।
নাটক সৃজনশীলতার এক গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম, যা অভিনয়, লেখা ও পরিচালনার মাধ্যমে শৈল্পিক আত্মপ্রকাশের সুযোগ করে দেয়। অনেক নাট্যকর্ম দ্বন্দ্ব ও তার সমাধানকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে, যা মানুষকে চিন্তা করতে শেখায় এবং অন্তর্দৃষ্টি প্রদান করে। আত্মপ্রকাশ, যোগাযোগ, সহানুভূতি এবং সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা বিকাশে নাটক এক শক্তিশালী মাধ্যম, যা সব বয়স ও পটভূমির মানুষের জীবনকে সমৃদ্ধ করে।

এই নাট্যোৎসবে আমেরিকার বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে মোট আটটি নাট্যদল অংশগ্রহণ করে। ২৩ ও ২৪ মে সুর অডিটোরিয়ামে সাড়ম্বরে উৎসবটি উদযাপিত হয়। ২৩ মে শনিবার বিকেল চারটায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে নাট্যোৎসবের সূচনা হয়। উৎসবের উদ্বোধন করেন কলকাতার বিশিষ্ট ও স্বনামধন্য নাট্যব্যক্তিত্ব শ্রী দেবশঙ্কর হালদার। তাঁর উপস্থিতি, অনবদ্য শিল্পনৈপুণ্য এবং আন্তরিক উৎসাহ অনুষ্ঠানটিকে আরও বিশেষ মর্যাদা দিয়েছে। প্রতিটি নাটকই ছিল অসাধারণ।
নাট্যোৎসবের শেষ দিনে দেবশঙ্কর হালদার অভিনীত এবং HDBS-এর পৃষ্ঠপোষকতায় ‘ব্রিটিশ বাবু’ নাটকটি মঞ্চস্থ হয়। এটি ছিল এক অনন্য ও চমৎকার পরিবেশনা। নাট্যোৎসবে বিপুলসংখ্যক দর্শকের উপস্থিতি উৎসবকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। দুর্গাবাড়ি কর্তৃপক্ষ প্রতিদিন বিভিন্ন ধরনের স্ন্যাকস ও নৈশভোজের ব্যবস্থা করেছিলেন।

নাট্যোৎসবের মূল সংগঠকদের তাঁদের দূরদৃষ্টি, সুপরিকল্পনা এবং নিরলস সমন্বয়ের জন্য জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ। সেই সঙ্গে ধন্যবাদ প্রতিটি স্বেচ্ছাসেবক ও দলের সদস্যকে, যাঁরা নেপথ্যে থেকে নীরবে ও অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে এই আয়োজনকে সফল করে তুলেছেন।


