হিউস্টন, যুক্তরাষ্ট্র: Durga Bari Society এবং Tagore Society-এর যৌথ উদ্যোগে বার্ষিক পিকনিক ও হোলি উৎসব সম্প্রতি হিউস্টনের রে মিলার পার্কে অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রবাসী ভারতীয় ও বাঙালি সম্প্রদায়ের বিপুল অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায় পরিণত হয়।
দিনব্যাপী এই আয়োজনে ছিল রঙের উৎসব হোলি উদযাপন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সঙ্গীত পরিবেশন এবং নানা বিনোদনমূলক কার্যক্রম। শিশু থেকে প্রবীণ সব বয়সের অংশগ্রহণকারীরা রঙ খেলায় মেতে ওঠেন এবং উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নেন।

শীতের বিদায় ও বসন্তের আগমন উপলক্ষে উদযাপিত হোলি উৎসব মন্দের ওপর ভালোর জয় এবং ভালোবাসা ও ইতিবাচকতার বার্তা বহন করে। বাংলায় ‘দোল’ নামে পরিচিত এই উৎসব বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে ‘হোলি’ হিসেবে পালিত হয়।

আধুনিক বাংলায় দোল উৎসবের প্রবর্তন করেন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। ১৯০৭ সালে তাঁর ছোট ছেলে শমীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘ঋতুরঙ্গ’ উৎসবের সূচনা করেন। শান্তিনিকেতনের ‘প্রাণ কুঠির’-এর সামনে শুরু হওয়া এই আয়োজন পরবর্তীতে ‘বসন্ত উৎসব’ নামে পরিচিতি লাভ করে। শুরুতে বসন্তের যেকোনো দিনে উদযাপিত হলেও পরবর্তীতে বসন্ত পূর্ণিমার দিনেই তা পালিত হতে থাকে। আজও গ্রামবাংলায় সংকীর্তনের সুরে দোলের সকালে শোনা যায় “ওরে গৃহবাসী, খোল দ্বার খোল, লাগল যে দোল।”

পিকনিকের অংশ হিসেবে পরিবেশিত হয় নানা ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় ও বাঙালি খাবার, যা স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে প্রস্তুত করা হয়। অংশগ্রহণকারীরা জানান, এ ধরনের আয়োজন প্রবাস জীবনের ব্যস্ততার মাঝেও তাদের সাংস্কৃতিক শিকড়ের সঙ্গে সংযুক্ত রাখে এবং সামাজিক বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভবিষ্যতেও এ ধরনের উৎসবমুখর আয়োজন অব্যাহত থাকবে, যাতে নতুন প্রজন্মের কাছে ভারতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরা যায়।


